ফরিদপুরে এফডিআরের টাকার লোভে খালাকে খুন
ফরিদপুরের নগরকান্দায় চাঞ্চল্যকর জামেলা বেগম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করে ঘটনার মাত্র চার দিনের মাথায় মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে এ সাফলতা আসে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে নগরকান্দা সার্কেল অফিসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নিহত জামেলা বেগম (৬৫) ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার জাকেরডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা শেখ মোতালেবের বড় বোন। গত ২৭ মার্চ রাত থেকে ২৮ মার্চ ভোরের মধ্যে কোনো এক সময়ে অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশের সেফটি ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই শেখ মোতালেব বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পরপরই সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। টিমে ছিলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ এবং তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নাজমুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা।
পুলিশ জানায়, ঘটনার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ, সম্ভাব্য মোটিভ খোঁজা এবং সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারির মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে অবশেষে মূল আসামির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
পরে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাড়ীরটেক এলাকা থেকে মো. আলমগীর হোসেন (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নিহত জামেলা বেগমের ভাগ্নে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে আর্থিক সংকটে পড়েন এবং বিভিন্ন স্থানে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তিনি তার খালা জামেলা বেগমের কাছে টাকা ধার চান। কিন্তু খালা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার প্রতি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, জামেলা বেগমের স্বামী মৃত এবং তার দুই মেয়ে থাকলেও কোনো ছেলে সন্তান নেই। তিনি একাই বাড়িতে বসবাস করতেন। এছাড়া জমি বিক্রির কিছু টাকা স্থানীয় একটি এনজিওতে এফডিআর হিসেবে জমা ছিল, যা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।