২৭ মার্চ ২০২৬, ১৬:৩৬

বন্য হাতি হত্যা করে মাটিচাপা, গোপন করতে ওপরেই ঘর নির্মাণ

বন্য হাতিক হত্যা করে মাটিচাপা দিয়েছে দুবৃত্তরা।  © টিডিসি ফটো

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার দুর্গম বনাঞ্চলে একটি বন্য হাতিকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়েছে দুবৃত্তরা। ঘটনা আড়াল করতে মাটিচাপার ওপরেই ঘর নির্মান করে তারা। তবে মরদেহ পচে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয় ও বনবিভাগের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম নগর ও করিম্মা কাটার ঘোনা এলাকার গভীর বনাঞ্চলে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আনুমানিক এক মাস আগে প্রায় ১০ বছর বয়সী একটি বন্য হাতিকে হত্যা করা হয়। এরপর অপরাধীরা হাতিটির মরদেহ একটি গর্তে পুঁতে ফেলে এবং বিষয়টি গোপন রাখতে ঠিক তার উপরেই একটি ছোট কাঁচা ঘর নির্মাণ করে। বাইরে থেকে দেখলে যেন সেটি বসবাস বা পাহারার ঘর বলে মনে হয়।

তবে মরদেহ পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ অনুভূত হলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়। বিষয়টি বনবিভাগকে জানানো হলে নলবিলা বনবিটের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্গন্ধের উৎস অনুসন্ধান শুরু করে। একপর্যায়ে সন্দেহজনক ওই ঘরটি খুঁড়ে নিচে হাতির মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে বনবিভাগ, পুলিশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি উচ্চপর্যায়ের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফাসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন, চকরিয়া থানা ও ফাইতং ফাঁড়ি পুলিশ এবং নলবিলা ও ফাইতং বনবিটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ঘটনাস্থলেই হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাতিটিকে গুলি করে অথবা জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় মাটিচাপা অবস্থায় থাকায় মরদেহে পচন ধরেছে, ফলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে ল্যাব পরীক্ষার সহায়তা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ফাসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ সাদেকুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে এবং বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।