২৪ মার্চ ২০২৬, ১৭:০৮

পাবনায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত আরও একজনের মৃত্যু, আটক ১২

নিহত মুনছুর খাঁ  © সংগৃহীত

পাবনার সুজানগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বিএনপি সমর্থিত দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গুলিতে আহত মুনছুর খাঁ (৬০) নামের আরও একজন মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা তিনটার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

নিহত মুনছুর খাঁ সুজানগর উপজেলার ভিটবিলা গ্রামের মৃত জয়নাল শেখের ছেলে। 

এ নিয়ে এ ঘটনা নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল দুজনে। এর আগে সোমবার সকালে সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান চায়না খাতুন (৪০) নামের এক গৃহবধু। তিনি একই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী। 

নিহত দুজনই বিএনপি কর্মী ইসলাম প্রামাণিক পক্ষের সমর্থক।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খঈম উদ্দিন বলেন, গতকাল সংঘর্ষে এক গৃহবধু নিহতের পর আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত আরও একজন মারা গেছেন। গৃহবধূ মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর আহত যিনি মারা গেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। 

ওসি খঈম উদ্দিন আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেল চারটা পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে মামলা রুজু করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল আটটার দিকে সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে চায়না খাতুন নামের এক গৃহবধূ ঘটনাস্থলে মারা যান। গুলিবিদ্ধ সহ আহত হন উভয়পক্ষের অন্তত আরো ১০ জন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের সাথে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি কর্মী ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। রবিবার দিবাগত রাতে দুই পক্ষের ছেলেদের মধ্যে মারামারি হয়।

স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষই বিএনপি সমর্থক। ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া বাজার এলাকা ও পূর্ব পাড়া এলাকার দুই পক্ষের ছেলেদের মধ্যে সোমবার রাতে ঝামেলা হয়। সেই ঘটনার পর পূর্ব পাড়ার লোকদের (রাজা গ্রুপের) পশ্চিম পাড়া বাজারে যেতে দেবে না বলে ঘোষণা দেয় পশ্চিম পাড়া এলাকার (ইসলাম গ্রুপের) লোকজন। সোমবার সকালে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাহারা বসায় তারা এবং বাজারে যাওয়া পূর্ব পাড়ার লোকদের ফিরিয়ে দেয় পশ্চিম পাড়ারে লোকজন। পরে পূর্ব পাড়ার লোকজন এক জোট হয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে পূর্ব পাড়ার লোকদের ওপর হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ ও বাড়ি ভাঙচুর করে।