১৩ মার্চ ২০২৬, ০২:০৫

ঈদের আগে-পরে ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক-লরি চলাচল বন্ধ

ঢাকা মেট্রপলিটন পুলিশ  © সংগৃহীত

ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যান চলাচলের বিষয়ে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এর মধ্যে রয়েছে আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ডিএমপি।

এতে আরও বলা হয়, ১৬ মার্চ থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মহানগরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিহার করে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ করা হলো। এসব সড়কের মধ্যে রয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কুড়িল থেকে আবদুল্লাহপুর অংশ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুলিস্তান থেকে সাইনবোর্ড অংশ, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বা মিরপুর রোডের আড়ং ক্রসিং থেকে আমিনবাজার অংশ এবং ঢাকা-কেরানীগঞ্জ সড়কের ফুলবাড়িয়া থেকে তাঁতিবাজার হয়ে বাবুবাজার ব্রিজ অংশ। এ ছাড়া ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের গুলিস্তান থেকে বুড়িগঙ্গা ব্রিজ অংশ, মোহাম্মদপুর বছিলা ক্রসিং থেকে বছিলা ব্রিজ, আবদুল্লাহপুর থেকে ধউর ব্রিজ এবং ফুলবাড়িয়া থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সড়ক।

গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের জন্য নির্দেশনায় বলা হয়, আন্তজেলা বাসগুলোকে টার্মিনালের ভেতর থেকে যাত্রী উঠিয়ে সরাসরি গন্তব্যে যেতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই টার্মিনালের বাইরে প্রধান সড়কের ওপর বাস দাঁড় করানো যাবে না। অনুমোদিত বাস কাউন্টার বা স্টপেজ ছাড়া মাঝপথে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঢাকা মহানগরে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলোতে কোনো ধরনের বাস পার্কিং করা যাবে না।

বিআরটিসির বাসগুলো সংশ্লিষ্ট ডিপো থেকে বের হয়ে সরাসরি নির্ধারিত জেলার উদ্দেশে যাত্রা করবে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কল্যাণপুর ও গাবতলী ডিপোর বাসগুলো সরাসরি রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দিকে যাবে এবং ফুলবাড়িয়া ও কমলাপুর ডিপোর বাসগুলো যাবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দিকে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়তে হবে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করা যাবে না। যাত্রীদের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার বা হয়রানি করা যাবে না এবং একই সিটের টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বাসের সিটের অতিরিক্ত যাত্রী বহন বা বাসের ছাদে যাত্রী ওঠানোও যাবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে চালকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাতে হবে এবং কোনোভাবেই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। বিশেষ করে ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকা, রাস্তার বাঁক ও সরু সেতুতে ওভারটেকিং করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে বা শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া কোনো যানবাহন চালানো যাবে না এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি বাসে উচ্চ স্বরে গান বাজানো এবং উল্টো পথে গাড়ি চালানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মালিকপক্ষ চালকদের একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি এবং দিনে আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করতে পারবেন না।

এ ছাড়া ফিটনেসবিহীন, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত বা কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী জরাজীর্ণ যানবাহন সড়কে নামানো যাবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।