১২ মার্চ ২০২৬, ১৩:২৫

আনোয়ারায় মহিমের মৃত্যুর জের ৬ জনকে কুপিয়ে জখম

হামলায় আহতরা  © টিডিসি

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার শোলকাটা এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাঈনুদ্দীন মহিমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিপক্ষের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শোলকাটা গ্রাম এখন অনেকটা অঘোষিত জঙ্গল সলিমপুর এ পরিণত হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর দুইটার দিকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেটসংলগ্ন এলাকায় হামলার এ ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন আনোয়ারা উপজেলা ছাত্রদলের নেতা এইচ এম তারেকুল ইসলাম (২৮), তার বাবা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আবু তাহের সওদাগর (৫০), বারখাইন ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. শাহজাহান মিয়া (৩১), তার ছোট ভাই মো. শাকিল (২৯), মো. তারেক (২১) ও মো. রাশেদ (৩২)। আহতরা সবাই শোলকাটা গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোরে আনোয়ারায় একটি ছয়তলা ভবন থেকে পড়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাঈনুদ্দীন মহিমের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় কয়েক দফা সংঘর্ষ, হাতাহাতি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার পাশাপাশি পরদিনও স্থানীয় কয়েকজনের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী মো. শাহজাহান মিয়া অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার ভোরে সম্রাট গ্যাংয়ের সদস্য মহিম হাশেম কমপ্লেক্স নামে একটি ছয়তলা ভবনে চুরি করতে গিয়ে নিচে পড়ে মারা যান। এর জেরে গ্যাংটির সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুর চালায়। পরে শোলকাটা এলাকায় ইলিয়াস মির্জা কালু ও তার ছেলে সম্রাটের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

তিনি বলেন, ‘আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। আমার নিরীহ ভাইকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীরা আনোয়ারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নঈম উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং তারেকুল ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মহিমের মৃত্যুর ঘটনার জেরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দরজায় ভাঙচুর করা হয়। পরে হামলায় আহত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, মহিমের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবার অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে। মহিমের বিরুদ্ধে থানায় চারটি মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুরি করতে গিয়ে ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং ‘সম্রাট গ্রুপ’-এর হামলার পর থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে আইনশৃঙ্খলা জোরদার করা হয়েছে।