১১ মার্চ ২০২৬, ২২:৩৬

পরীক্ষায় নকল ধরায় শিক্ষককে মারধর, অভিযুক্ত পরীক্ষার্থী গ্রেপ্তার

অভিযুক্ত মো. রাসেল মিয়া  © টিডিসি ফটো

রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি ফাইনাল পরীক্ষায় নকল ধরাকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত মো. রাসেল মিয়া নামের এক পরীক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১১ মার্চ) অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা।

এর আগে, শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁও কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত এলএলবি ফাইনাল পর্বের পরীক্ষায় নকল করতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষক সোহেল রানাকে লাঞ্ছিত ও মারধর করে দুই পরীক্ষার্থী। এসময় দায়িত্ব পালনরত শিক্ষক মো. সোহেল রানা লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক সোহেল রানা শেরেরবাংলা নগর থানায় গত ৯ মার্চ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় আসামিরা হলেন শিক্ষার্থী শরীফুল ইসলাম, মো. রাসেল মিয়াসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ছয়-সাতজন।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি পরীক্ষায় নকল ধরায় শিক্ষককে মারধর, দুই পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

শিক্ষককে মারধরের ঘটনাটি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সরাসরি তদারকি করছেন বলে জানা গেছে।

এজাহারে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষক সোহেল রানা জানান, পরীক্ষা চলাকালে তিনি পরিদর্শক হিসেবে কলেজের ৬০৮ নম্বর কক্ষে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, আসামি শরীফুল ইসলাম ও মো. রাসেল মিয়া অসদুপায় অবলম্বন করে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। এরপর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আসামিদের পরীক্ষা থেকে বহিষ্কারের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করে।

এ ঘটনায় শরীফুল, রাসেল ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও ছয়-সাতজন শিক্ষক সোহেলের পথরোধ করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। পরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ দেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তেজগাঁও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব অধ্যাপক শামীমা ইয়াসমিন জানান, অভিযুক্ত দুই পরীক্ষার্থীকে ইতোমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। কলেজ প্রশাসন আরও জানায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের কঠোর নজরদারির অংশ হিসেবে নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। এ ধরনের বিশৃঙ্খলা ও শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমরা তদন্ত করছি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ওই ছাত্রদের ছাত্রত্ব আজীবনের জন্য বাতিল করা হবে।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি।’