১০ মার্চ ২০২৬, ১৫:৩৬

সলিমপুর জঙ্গলে যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার, আটক ২২

চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করছে পুলিশ  © সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড জঙ্গল সলিমপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। এ সময় ২২ জনকে আটক করা হয়। আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর জঙ্গলে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অবৈধ অস্ত্র মজুদ, পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি এবং অপরাধীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। পরে বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার (৯ মার্চ) ভোর সাড়ে পাঁচটায় যৌথবাহিনীর একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সলিমপুর জঙ্গলের বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় যৌথ বাহিনী ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেল, পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও ১৯টি সিসি ক্যামেরা, ৩টি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুইটি বাইনোকুলার উদ্ধার করা হয়।

বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও অস্ত্র তৈরির কারখানাসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ডের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে। আলীনগরের বিভিন্ন প্রবেশ পথ ও পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত ওয়াচ টাওয়ারগুলোর কার্যক্রমও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এসব ওয়াচ টাওয়ার ব্যবহার করে অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গমনাগমন পর্যবেক্ষণ করত। 

আরও পড়ুন : লঞ্চের কেবিনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রীকে ধর্ষণ

অভিযানকালে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং সার্বিক পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত ও গ্রেফতাকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন  বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। 

জানা গেছে, বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত এ অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), এপিবিএন, আরআরএফসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া ৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। 

অভিযান পরিচালনায় ৩টি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি, র‍্যাব ও সিএমপির ৩টি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যৌথবাহিনীর সদস্যরা একযোগে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, র‍্যাব-৭ এর সিও লে. কর্ণেল মো. হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন।