০৫ মার্চ ২০২৬, ১৮:৫৪

প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণী

গ্রেপ্তারকৃত আসামী   © সংগৃহীত

ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্রে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা থেকে সুনামগঞ্জে ‘প্রেমিকের’ সঙ্গে দেখা করতে এসে ১৭ বছরের এক কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলার পর তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বাঁধনপাড়া এলাকার সোহেল মিয়া (৩০), বড়পাড়া এলাকার মাসুম মিয়া (২৫) ও গণিপুর এলাকার মোহাম্মদ এরশাদ (৩৪)। এ ঘটনায় বুধবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরী।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলায়। ভৈরব নামের সুনামগঞ্জের এক যুবকের সঙ্গে তার ফেসবুকে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করতে সুনামগঞ্জে আসে কিশোরী। দেখা হওয়ার পর উভয়ের ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে সম্পর্কটি আর না এগোনোর সিদ্ধান্ত নেয় দুজন।

এরপর তাৎক্ষণিকভাবে ওই কিশোরীকে বন্ধু সোহেল মিয়ার বাসায় রাখে ভৈরব। সেখানে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে সোহেল। একপর্যায়ে গত রবিবার কিশোরীকে বাসা থেকে চলে যেতে বলেন সোহেলের মা। এরপর কিশোরীকে সিলেটে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দুই বন্ধু এরশাদ ও মাসুমকে দায়িত্ব দেয় সোহেল।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই কিশোরীকে সিলেটে না নিয়ে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় মাসুম ও এরশাদ। একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতরে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে তারা। পরে কান্নাকাটি শুরু করলে কিশোরীকে বিশ্বম্ভরপুর শহরের ওয়েজখালী এলাকার একটি বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে ওই বাসার মালিক বিষয়টি সোহেলকে জানান। তিনি ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই কিশোরী বাদী হয়ে থানায় তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, ‘মামলা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’