গৃহবধূকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আর্থিক সহায়তার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও সেই ঘটনার ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দুজনের নামে মামলা করলে আদালতের নির্দেশে থানায় নিয়মিত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর নাম দেলোয়ার হোসেন দেলু (৪০)। অপর আসামি দেলুর সহযোগী সিএনজিচালক মোরশেদ মোল্লা (৩৫)।
মামলা বিবরণে জানা যায়, ওই গৃহবধূর স্বামী দীর্ঘদিন প্যারালাইসিস অসুস্থ ও চলাচলে অক্ষম। এতে আর্থিক অভাব-অনটনে পড়েন গৃহবধূ। দেলোয়ার হোসেন দেলু গত বছরের ৭ মার্চ গৃহবধূকে আর্থিক সহায়তার জন্য তার রামগঞ্জ শহরস্থ কলাবাগান লন্ডন ম্যানসন ২য় তলার ভাড়া বাসায় যাওয়ার জন্য বলেন। ওই দিন দুপুর ১২টায় গৃহবধূ মামলার ২ নম্বর আসামির সিএনজিযোগে দেলোয়ার হোসেন দেলুর বাসায় যান। এ সময় দেলোয়ার হোসেন দেলু খালি বাসায় জোরপূর্বক গৃহবধূর শরীরের বস্ত্র খুলে নগ্ন ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। এভাবে তিনি ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন এবং ২ নম্বর আসামির মোবাইলে ওই ভিডিও দেন। পরবর্তী সময়ে ২ নম্বর আসামি ওই ভিডিও গৃহবধূর আত্মীয়স্বজন ও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ধর্ষণের প্রস্তাব এবং ২ লাখ টাকা দাবি করেন। গৃহবধূ নিরুপায় হয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রামগঞ্জ থানায় অভিযোগ করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেন। পরে গৃহবধূ বাদী হয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে রামগঞ্জ থানাকে নিয়মিত মামলা রেকর্ডভূক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।
ওই গৃহবধূ বলেন, ‘আমি দেলোয়ার হোসেন দেলু ও মোরশেদকে বহু কাকুতি মিনতি করে বলেছি, ছবি ও ভিডিও ডিলেট বা মুছিয়ে ফেলার জন্য। কিন্তু তারা এ ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমদি দিয়ে আসছে এবং আমার ওপর বারবার শারিরিক ও মানসিক অত্যাচার নির্যাতন করে। শেষে আমি নিরুপায় হয়ে মামলা করেছি।’
ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন দেলু ও মোরশেদ মোল্লা পলাতক। তাদের মোবাইল ফোনে করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রামগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, আদালতের নির্দেশক্রমে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলা তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।