০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৫০

গলাকাটা অবস্থায় জঙ্গলে হাঁটতে থাকা সেই শিশুটি আর নেই

চট্টগ্রামে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া শিশুটি মারা গেল  © সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গলের ভেতর গলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সাত বছর বয়সী শিশুটি মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে।

শুক্রবার (১ মার্চ) সকালে সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। তার মামা জানান, ভোর সাড়ে চারটার দিকে শিশুটির শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেওয়া হলেও ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির গলায় এবং হাতে গভীর ক্ষত ছিল। গলার গুরুতর আঘাতের কারণে তার শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে শুরু থেকেই সে কথা বলতে পারছিল না।

এর আগে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানিয়েছিলেন, শিশুটির গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে যৌন সহিংসতার আলামত পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার (১ মার্চ) দুপুরের দিকে ইকোপার্কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার গভীরে সড়ক সংস্কার কাজ চলছিল। এ সময় একটি স্কেভেটর চালক দেখতে পান, রক্তাক্ত একটি শিশু জঙ্গলের মধ্যে থেকে টলমল পায়ে রাস্তার দিকে আসছে। শ্রমিকরা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তার গলার ক্ষত কাপড় দিয়ে চেপে ধরে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করেন। পরে শিশুটিকে একটি ট্রাকে করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। শিশুটি ইশারায় বোঝানোর চেষ্টা করেছিল, যে এমন নিষ্ঠুর আচরণ করেছে তাকে সে চিনতে পারবে।

অবস্থা অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উদ্ধারস্থল সহস্রধারা ঝর্ণা এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার উত্তরে একটি পাহাড়ি নির্জন পথ।

পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির বাড়ি কুমিরা ইউনিয়নের মছজিদদা (মাস্টারপাড়া) এলাকায়। ঘটনাস্থলের দূরত্ব তার বাড়ি থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, এত কম বয়সী শিশু কীভাবে একা ইকোপার্কের এত গভীরে পৌঁছালো, তাকে কেউ তুলে নিয়ে গেছে কি না, বা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে কি না।

শিশুটির মা রোববার রাতেই সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস ও উদ্বেগজনক। সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।’