উপবৃত্তির প্রলোভনে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল, অধ্যক্ষ কারাগারে
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে পন্ডিতপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রঞ্জু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উপবৃত্তির প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে তিনি ধর্ষণ করেন পরে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয় বলে অভিযোগ করেছে ওই ছাত্রী।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে ওই অধ্যক্ষকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে শুক্রবার রাতে নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার রঞ্জু মিয়া উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে পন্ডিতপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে কর্মরত ছিলেন ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা পরিচালনা ও ছাত্রীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে আগেও একাধিক অভিযোগ থাকলেও কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করতে সাহস পাননি। এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি জানান, তদন্ত শেষে দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হবে এবং আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী চার মাস আগে মাদ্রাসাটিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন। ভর্তির পর থেকেই অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়া পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার অজুহাতে তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং সরকারি উপবৃত্তি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন করেন ।
গত ১৮ ডিসেম্বর (২০২৫) সকালে উপবৃত্তি ফরমে স্বাক্ষরের জরুরি অজুহাতে অধ্যক্ষ ওই ছাত্রীকে তার পান্থাপাড়ার বাসায় ডেকে নেন। সেখানে কেউ না থাকার সুযোগে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এ সময় অত্যন্ত কৌশলে মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে রাখেন অধ্যক্ষ রঞ্জু ।
ভিডিও ধারণের পর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি তাকে আবারও ধর্ষণ করা হয়। দীর্ঘ দুই মাস ধরে এই ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগী ছাত্রী তার পরিবারের কাছে ঘটনা খুলে বলেন। পরে গত শুক্রবার রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয় ।
মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়াকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলেও জানান তিনি।