বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মহত্যা বেশি ছেলেদের, স্কুলে বেশি মেয়ে
দেশে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পরিসংখ্যানে ভিন্নধর্মী ও উদ্বেগজনক একটি প্রবণতা উঠে এসেছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে অর্থাৎ স্কুল পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার বেশি হলেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছেলেদের মধ্যে এই প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রাকাশিত ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্কুল পর্যায়ে মোট ১৯০ জন শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। এর মধ্যে ১৩৯ জনই নারী শিক্ষার্থী এবং ৫১ জন পুরুষ। অর্থাৎ, স্কুল পর্যায়ে ছেলেদের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীরা সামাজিক ও পারিবারিক চাপ, সম্পর্কজনিত টানাপোড়েন এবং আবেগীয় সংকটে তুলনামূলকভাবে বেশি ভঙ্গুর থাকে। এছাড়া স্কুল পর্যায়ে একাডেমিক চাপের কারণে আত্মহত্যার ঘটনায় ৭০.৮৩ শতাংশই ছিল নারী শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চিত্রটি ভিন্ন। এই স্তরে মোট ৭৭ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যার মধ্যে ৪১ জন ছেলে এবং ৩৬ জন মেয়ে। বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মহননকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৯.১ শতাংশই পুরুষ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে সেশনজট, ক্যারিয়ার নিয়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা, কর্মসংস্থান সংকট এবং আত্মপরিচয়ের লড়াই ছেলেদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে।
সামগ্রিকভাবে ২০২৫ সালে সারা দেশে মোট ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যার মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর হার ৬১.৮ শতাংশ। তবে শিক্ষার স্তরভেদে কারণের ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। স্কুল পর্যায়ে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পরিবারের ওপর অভিমান, যা ৩২.৬১ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী, এবং একাডেমিক চাপ, যা ২৩.৬৯ শতাংশ ঘটনার কারণ। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে, বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হতাশা ৩৬.৩৬ শতাংশ এবং প্রেমঘটিত কারণ ২৯.৫৪ শতাংশ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে হতাশাজনিত আত্মহত্যার হার আরও বেশি, প্রায় ৪৭.০৫ শতাংশ।
এই জেন্ডারভিত্তিক সংকট মোকাবিলায় এবং ২০৩০ সালের মধ্যে আত্মহত্যার হার শূন্যে নামিয়ে আনতে আঁচল ফাউন্ডেশন কয়েকটি জরুরি প্রস্তাবনা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু করা, উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং জোরদার করা ও সেশনজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া, কিশোরীদের আবেগীয় সংকট মোকাবিলায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাইকো-সোশ্যাল প্রশিক্ষণ প্রদান এবং মানসিক সমস্যা নিয়ে সামাজিক ট্যাবু বা স্টিগমা দূর করতে প্রচার অভিযান পরিচালনা।