২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:০৫

নারী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি

প্রতীকী ছবি  © ফাইল ছবি

দেশে নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গত এক বছরে সারা দেশে আত্মহননকারী ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৪৯ জনই নারী, যা মোট সংখ্যার ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ। বিপরীতে পুরুষ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার সংখ্যা ১৫৪ জন, যা ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রাকাশিত ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার পুরুষদের তুলনায় বেশি। স্কুল পর্যায়ে ৫১ জন পুরুষ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৩৯ জন নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। একইভাবে কলেজ পর্যায়ে ৪২ জন পুরুষের বিপরীতে ৫০ জন নারী শিক্ষার্থী নিজেদের জীবন শেষ করে দিয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চিত্র কিছুটা ভিন্ন; সেখানে ৩৬ জন নারী ও ৪১ জন পুরুষ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয়ে আত্মহত্যা বেশি ছেলেদের, স্কুলে বেশি মেয়ে

নারী শিক্ষার্থীদের এই উচ্চ হারের পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। একাডেমিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করা ৭২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশই নারী। অভিমানে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৭০ শতাংশ নারী। এছাড়া হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহননকারীদের ৫৫ দশমিক ৩৫ শতাংশই নারী শিক্ষার্থী।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি। এই বয়সসীমায় ১৯০ জন নারী ও ৭৮ জন পুরুষ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৈশোরে মেয়েরা সামাজিক ও পারিবারিক চাপ, সম্পর্কজনিত টানাপোড়েন এবং আবেগীয় সংকটে বেশি ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। পাশাপাশি যৌন নির্যাতন ও সাইবার বুলিংয়ের মতো ঘটনাও নারী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পেছনে ভূমিকা রাখছে।

আরও পড়ুন: আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের অর্ধেকই স্কুলের

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আঁচল ফাউন্ডেশন কয়েকটি জরুরি প্রস্তাবনা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিষণ্ণতা বা উদ্বেগের লক্ষণ শনাক্ত করতে শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রশিক্ষণ এবং অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ বাড়াতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ।