আসামিকে না পেয়ে আসামির ছোটভাই ও তার স্ত্রীকে পুলিশের মারধর
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় জামিনপ্রাপ্ত এক আসামিকে ধরতে গিয়ে না পেয়ে তার ছোট ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। আহত অবস্থায় তাদের ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের ঝবঝবিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মো. রনি হোসেন (২৫) ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন (২২)।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মন্টু আলী নামে এক ব্যক্তি চেক ডিজঅনারের অভিযোগে পাবনা আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত ঝবঝবিয়া গ্রামের আব্দুর রহিম রুবেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এরপর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মামলায় আদালত থেকে জামিন পান রুবেল। জামিনের কপি থানায় জমা দেওয়া হয়েছে বলেও পরিবারের দাবি।
পুলিশ জানায়, চেক ডিজঅনার মামলার আসামি আব্দুর রহিম রুবেলকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে ভাঙ্গুড়া থানার এসআই রেজাউল করিম রেজার নেতৃত্বে একটি দল গতকাল বৃহস্পতিবার তার বাড়িতে যায়। অভিযানে তার সাথে এসআই সুব্রতসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন।
রুবেলের ছোট ভাই আহত রনি জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রুবেল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তাকে না পেয়ে পাশে থাকা তার বাড়িতে ঢুকে পুলিশ সদস্যরা।
তার অভিযোগ, ঘরের গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রনি ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মারধর করে পুলিশ সদস্যরা। একপর্যায়ে তারা অচেতন হয়ে পড়লে পুলিশ সেখান থেকে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, জামিনের কোনো কাগজ থানায় পৌঁছেনি। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ রুবেলের বাড়িতে যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে পালাতে সহায়তা করেন এবং পুলিশের কাজে বাধা দেন। দীর্ঘ সময় দরজা না খুলে অশোভন আচরণ করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ওসির ভাষ্য, আসামি পালানোর পর ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন এবং তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।