২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:০৭

থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা না নেওয়ায় গৃহবধূর বিষপান

গাইবান্ধা সদর থানা  © সংগৃহীত

গাইবান্ধা সদর থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণচেষ্টার মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগ এনে লজ্জা ও অপমানে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন এক গৃহবধূ। গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের উজির ধরনীবাড়ি গ্রামের ওই গৃহবধূ বর্তমানে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে ধর্ষণচেষ্টা ও থানায় মামলা না নেওয়ার বিষয় তুলে ধরেন ভুক্তভোগী নারী নুরুন নাহার বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তিনি স্থানীয় এএইচএম জিয়াউর রহমান খানের বাড়িঘর ও জমিজমা দেখাশোনা করতেন। জিয়াউর রহমানের সঙ্গে একই গ্রামের কবির খান পলাশ, স্বচ্ছ মিয়া, ইমতিয়াজ খান রওনক ও আব্দুস সাত্তারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। মাটি কেটে বিক্রির ঘটনায় জিয়াউর রহমানের দায়ের করা মামলার সাক্ষী ছিলেন তিনি।

ভুক্তভোগী জানান, ওই মামলার সাক্ষী হওয়ায় পর জিয়াউর রহমানকে ফাঁসাতে নুরুন নাহারকে দিয়ে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করানোর জন্য গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তাকে ৫০ হাজার টাকার প্রস্তাব দেয় আসামিরা। পরের দিন তার শাশুড়িকেও একই প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকালে কয়েকজন মিলে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ব্যর্থ হয়ে বেদম মারপিট করে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নুরুন নাহার বাদী হয়ে কবির খান পলাশ, স্বচ্ছ মিয়া, ইমতিয়াজ খান রওনক, আব্দুস সাত্তার ও কেয়া বেগমসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা করতে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি হতাশ হন।

তার অভিযোগ, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন তার অভিযোগ গ্রহণ না করে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি তিনি নুরুন নাহারকে বলেন, তুমি তো সাপের লেজে পা দিয়েছো। তোমার নিরাপত্তা কে দেবে, মীমাংসা করে নাও!

এ ঘটনায় লজ্জায় ও অপমানে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এই গৃহবধূ। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

সংবাদ সম্মেলনে নুরুন নাহারের স্বামী আব্দুর রশিদ উপস্থিত থেকে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। তিনি জানান, তার স্ত্রী সম্পূর্ণ নিরপরাধ। মামলা না নিয়ে ওসি সাহেব তাকে ফিরিয়ে দেওয়ায় তিনি এ পথ বেছে নিয়েছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।