২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:২৮

চার বছরের প্রেম—রাজধানীতে সেই স্কুলছাত্রীকে ডেকে হত্যা প্রেমিকের

হত্যার আগে অভিযুক্ত সিয়ামের সঙ্গে বিন্তি  © সংগৃহীত

রাজধানী হাজারীবাগে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী শারমিন বিন্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সিয়ামকে আটক করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কাঠালবাগান থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও রক্তমাখা জামাও উদ্ধার করা হয়েছে। 

ডিএমপি জানিয়েছে, ‘সিসিটিভি ফুটেজ দেখে রাজধানীর কাঠালবাগান থেকে অভিযুক্ত সিয়ামকে আটক করা হয়। এ সময় অস্ত্র ও রক্তমাখা পোশাকও জব্দ করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে সিয়ামকে ধারালো অস্ত্র হাতে দেখা যায়।’

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, ‘আমরা হত্যাকাণ্ডের পর পরই আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করি। ভিডিওতে ভিকটিম বিন্তির সঙ্গে সিয়ামকে একসঙ্গে হাঁটতে ও কথা বলতে দেখা গেছে। কথাবার্তার একপর্যায়ে সিয়াম ছুরি দিয়ে বিন্তিকে পেছন থেকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ছুরিকাঘাতের পর সিয়াম সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল। সেখানে অনেক মানুষজন ছিল, কিন্তু কিছুক্ষণ পর সে নির্বিঘ্নে বাইকে করে চলে যায়।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মেয়েটার সঙ্গে সিয়াম একই স্কুলে পড়াশোনা করতো। সিয়াম দাবি করেছে, তাদের মধ্যে চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাঝখানে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। সে ধারণা করে, মেয়েটা অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। সে ধারণা থেকেই তাকে ডেকে এনে এলোপাথাড়ি কুপিয়েছে।’

নিহত শিক্ষার্থীর বাবা বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমার মেয়ে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দুর্বৃত্ত আমার মেয়ের পিঠের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে আমরা তাকে প্রথমে শিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, আমার মেয়ে আর বেঁচে নেই।’