নেত্রকোনায় ভারতীয় রুপি ও প্রায় অর্ধকোটি টাকাসহ আটক ১৫
নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, ভারতীয় রুপি, গরু, মাদকদ্রব্য ও মোটরসাইকেলসহ অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল সীমান্তবর্তী রংছাতি ইউনিয়নের তেরোতোপা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। ওই গ্রামের মো. সারফুল ইসলামের (পিতা: রুস্তম আলী) বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি টাকা গণনার মেশিনসহ আনুমানিক ২ লাখ ৮০ হাজার ভারতীয় রুপি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এসব রুপি ভারতীয় গরু চোরাচালান ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল।
এদিকে অভিযান চলাকালে সংবাদ সংগ্রহের জন্য উপস্থিত সাংবাদিক জালাল উদ্দিন ও শ্যামল বিশ্বাস ভিডিও ধারণ করতে গেলে চোরাকারবারিরা উত্তেজিত হয়ে একপর্যায়ে ডিবি পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে সাংবাদিক শ্যামল বিশ্বাস আহত হন। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে উত্তেজিত জনতা ডিবি টিমকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে কলমাকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ডিবি সদস্যদের উদ্ধার করে।
কলমাকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) সজল সরকার জানান, ধারাবাহিক অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে নগদ ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা, ৫টি ভারতীয় গরু, ১টি মোটরসাইকেল, ২০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং ৫ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ঘটনায় ডিবি এবং সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এই অভিযানের পর সীমান্তবর্তী লেংঙ্গুরা, চ্যাংনি, খারনৈ, মানু এমপির বাগান, বৌ বাজার, বলমাঠ, কচুগড়া, বরুয়াকোনা ও মহিষখলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে চলমান অবৈধ সীমান্ত বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই অবৈধ লেনদেনের পেছনে একটি শক্তিশালী ও সংগঠিত চক্র জড়িত।