তারাবির নামাজরত শিবির নেতাকে মসজিদ থেকে বের করে পিটিয়ে রক্তাক্ত
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে তারাবির নামাজ পড়া অবস্থায় ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে মসজিদ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার বাউরিয়া জমির মাঝির মসজিদে এই ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা জিহাদকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম ও রক্তক্ষরণের চিহ্ন রয়েছে। মারধরের শিকার মো. জিহাদ বাউরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, জিহাদ মসজিদে অন্যান্য মুসল্লিদের সঙ্গে তারাবির নামাজ আদায় করছিলেন। নামাজ চলাকালীন জাসিব, নিরব, নাঈম ও জামালের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ইবাদতরত অবস্থায় জিহাদকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে মসজিদের বাইরে নিয়ে যায়। মসজিদের সামনেই তাকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং নির্বাচনী প্রচারে কেন গেলি–এমন অজুহাতে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করে। সন্ত্রাসীরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়।
আহত জিহাদের পরিবার ও সহপাঠীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করা এবং দলীয় আদর্শগত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর জিহাদকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। যারা এই অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানায় তারা।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন ঠাকুর জানান, যারা এই মারধরের ঘটনায় জড়িত, তারা বিএনপির কোনো সদস্য নয়। তারা সন্ত্রাসী। আমরা তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাই।
সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ নূর জানান, ঘটনা শোনার সাথে সাথেই আমাদের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভিকটিমের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।