১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৯

অগ্নিদগ্ধ জামায়াত কর্মীর মৃত্যু

মৎস্য খামারে দুর্বৃত্তদের আগুনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু  © সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরে একটি মৎস্য খামারে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ৫ দিন পর আব্বাস উদ্দিন (৫৫) নামে এক জামায়াত সমর্থক মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। 

এরআগে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের জিতু এগ্রো মৎস্য খামারে অগ্নিকান্ডে তিনি দগ্ধ হন। পরদিন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। 

নিহত আব্বাস উদ্দিন চররমনী মোহন এলাকার মৃত হোসেনের ছেলে ও জিতু এগ্রো মৎস্য খামারের মালিক। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের কর্মী ছিলেন বলে দাবি করেছেন তার বড় ছেলে এলাহি প্রিন্স।

আরও পড়ুন: মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি, কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন?

প্রিন্স জানান, তার মা ও বাবা খামারেই থাকতেন। তার মা সুলতানা রাজিয়া লাকি লক্ষ্মীপুর পৌর ৬ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি। ভোটের আগে রাতে দূর্বৃত্তরা বাহির থেকে খামারে থাকা ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঘর পুড়ে যায়। পরিবারের অন্য সদস্যরা দ্রুত বের হয়ে যেতে পারলেও আব্বাস পারেন নি। এতে তার হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে পুড়ে দগ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান পরিবারের লোকজন। রাজধানীর জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান।

প্রিন্স আরও জানায়, এর আগেও মৎস্য খামারের বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েক দফায় স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের স্থায়ী কয়েক নেতা আমার মা বাবাসহ আমাকেও কুপিয়ে আহত করেছিল। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। 

লক্ষ্মীপুর শহর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান বলেন, ঘটনাটি ভোটের আগের দিন ঘটেছে। যিনি মারা গেছেন তিনি প্রিন্সের বাবা। কয়েক মাস থেকে প্রিন্সও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে দাঁড়িপাল্লা সমর্থনে আমাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে ভোট করেছেন। তার বাবাও আমাদের জন্য কাজ করেছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।