১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫২

শেরপুরে ধানের শীষের এজেন্টকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে গিয়াস উদ্দিন রাসেল মিয়া  © টিডিসি

শেরপুরে বিএনপির প্রার্থীর ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী এজেন্ট গিয়াস উদ্দিন রাসেল মিয়াকে পথরোধ করে মারধর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত রাসেলকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের হেরুয়া-বালুরঘাটের নামাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

আহত গিয়াস উদ্দিন রাসেল মিয়াকে (৩৫) শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথা, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

গিয়াস উদ্দিন রাসেল শেরপুর-১ (সদর) আসনে হেরুয়া বালুরঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন। তিনি দৈনিক ভোরের চেতনার শেরপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাসেল অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি বিএনপি করি। ধানের শীষের নির্বাচনী এজেন্ট ছিলাম। এ কারণেই আমার ওপর জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা হামলা চালিয়েছেন। জামায়াত সমর্থক স্থানীয় কেরামত, জামাল, সোহেল, মনির ও তার ভাইয়ের নেতৃত্বে ১২-১৩ জন মিলে আমার ওপর এ হামলা চালিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি মোটরসাইকেলে তিনজন ব্যক্তি আমার পিছু পিছু আসছিল। তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। সেখানে আরও ৮-৯ জন সন্ত্রাসী ছিলে। তারা সবাই মিলে আমার ওপর হামলা চালায়। আমি প্রাণ বাঁচাতে একটি দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানে গিয়েও আমাকে মারধর করে।’

এ ঘটনার শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাহাতসহ বিএনপির নেতারা হাসপাতালে যান।

সদর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘জামায়াতের এমপি রাশেদুল ইসলাম নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর করে আসছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। রাসেলের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’

এ ঘটনায় বিএনপির এমপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান। 
 
এ বিষয়ে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ‘ঘটনাটি জেনেছি। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’