১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:১৩

জামায়াত সমর্থকদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা–ভাঙচুর, আহত ২

জামায়াতের কর্মী–সমর্থকদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর  © টিডিসি ফটো

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় জামায়াতের কর্মী–সমর্থকদের চারটি বাড়ি, দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন জামায়াত অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দুইজন নারী আহত হয়েছেন। এঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে পাটিখালঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. মিজানুর রহমান কালাম মেম্বারকে প্রধান আসামি করে ১৯ জনের বিরুদ্ধে কাঁঠালিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের (মামলা নং–০৬) করা হয়। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জামায়াত কর্মী জহিরুল ইসলাম দুলাল বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন।

পুলিশ, স্থানীয় জনগণ এবং মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কালাম মেম্বারের নেতৃত্বে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একদল নেতাকর্মী একই গ্রামের জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক সাবেক অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের বাড়ি, তার ভাই মরিচবুনিয়া গ্রামের কামাল জমাদ্দারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।

এ সময় হামলাকারীরা হারুন অর রশিদের গবাদিপশুর খাদ্য রাখার ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলায় কামাল জমাদ্দারের স্ত্রী রানু বেগম (৫৬) ও মেয়ে সাবিনা (৩০) আহত হন।

এছাড়া একই ইউনিয়নের মোস্তফা মাস্টার ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য মো. রিপনের বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। পাটিখালঘাটা বাজারের ঔষধ ব্যবসায়ী দুলালের ফার্মেসি এবং আব্দুর রবের চায়ের দোকানেও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। হামলাকারীরা ইউনিয়ন জামায়াত অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ফুয়াদ জমাদ্দার (৪২) ও ছাত্রদল নেতা জনি হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর পরিবর্তে জামায়াতকে ভোট দেওয়ায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা দোকান, ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি গবাদিপশুর খোঁয়াড়ে আগুন দেয় এবং হত্যার হুমকিও দেয় বলে দাবি তাদের।

এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান জানান, পাটিখালঘাটার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।