হাদি হত্যার বিচারের কর্মসূচিতে পুলিশের হামলা, শিবিরের বিবৃতি
ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে পুলিশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ডাকসুর নেত্রী ফাতেম তাসনিম জুমা, জকসুর নেত্রী শান্তা আক্তার, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনাকে বর্বোরোচিত হামলা উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ এ ‘ন্যাক্কারজনক হামলা’র তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিপেটা, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘‘গতকাল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। আজ বিকেল ৪টার দিকে কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই পুলিশ অতর্কিতভাবে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং লাঠিপেটা করে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং ঢাবি শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ অনেকেই গুরুতর আহত হন। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের দাবিতে পরিচালিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের এই আক্রমণাত্মক ভূমিকা কেবল নিন্দনীয়ই নয়, বরং এটি পুরোনো ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
ছাত্র-জনতা যে ফ্যাসিবাদকে রক্ত দিয়ে বিদায় করেছে, পুলিশ আজ সেই একই কায়দায় রাজপথে রক্ত ঝরিয়ে প্রমাণ করেছে যে, তারা এখনো ফ্যাসিবাদের সেবাদাস হিসেবেই কাজ করছে।’’
নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠস্বর শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে চরম উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণার সময় গত ১২ ডিসেম্বর গুলিবিদ্ধ হন এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৫৬ দিন পার হলেও মামলার কোনো যৌক্তিক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। উপরন্তু, মামলার শুনানি ইতোমধ্যে ৫ বার পেছানো হয়েছে, যা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও রহস্যজনক আচরণকেই স্পষ্ট করে। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর গঠিত সরকারের আমলে যদি বিচারপ্রার্থী পরিবারগুলোকে রাজপথে মার খেতে হয়, তবে এই সরকারের নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা সংগত। প্রশাসনের এই গড়িমসি এবং খুনিদের মদদ দেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”
পরিশেষে নেতৃবৃন্দ জোর দাবি জানিয়ে বলেন, “শহীদ ওসমান হাদির বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার পেছনে দেশি-বিদেশি কোনো আধিপত্যবাদী চক্রের গভীর ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা জাতিকে জানাতে হবে। অবিলম্বে আজকের হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ইনকিলাব মঞ্চের উত্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো অবিলম্বে মেনে নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আজকের হামলায় আহত নেতাকর্মীদের দ্রুত সুস্থতার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করছি এবং সরকারকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিচ্ছি যে, অবিলম্বে দমন-পীড়ন বন্ধ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না করলে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।”