বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছোট ভাইয়ের বিরোধ মেটাতে গিয়ে বড় ভাই খুন
রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছোট ভাইয়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতে গিয়ে পটুয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের বর্বরোচিত হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বড় ভাই খন্দকার নাহিদ (২৪)। জুনিয়রদের সাথে চলা বিবাদ মীমাংসার চেষ্টাকালে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহত নাহিদ পটুয়াখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মরহুম খন্দকার নিজাম উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিহত নাহিদের ছোট ভাই ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। সম্প্রতি পরীক্ষা চলাকালীন এক জুনিয়রের সঙ্গে তার বিবাদ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের সূত্র ধরে ক্ষুব্ধ জুনিয়র পক্ষ ও স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নাহিদের ওপর এই অতর্কিত হামলা চালায়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য মানুষের সাথে ঝামেলাকে কেন্দ্র করে অহেতুকভাবে পরপর দুই দিন নাহিদের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রথম দফায় গত ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কলাতলা বাজার এলাকায় নাহিদের ওপর হামলা চালানো হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সে সময় বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা পান তিনি। তবে পরদিন ৩১ ডিসেম্বর বিকেল ৪টার দিকে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে নির্মাণাধীন একটি ভবনের নিচতলায় স্থানীয় মাহিনের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জনের একটি কিশোর গ্যাং নাহিদের ওপর পুনরায় হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা প্রথমে নাহিদকে হুমকি দেয়। এরপর সঙ্গে থাকা ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে তার মাথায় একাধিকবার আঘাত করা হয়। নাহিদ অচেতন হয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় কর ভবনের এলাকা থেকে নাহিদকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) রেফার্ড করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে মাহিনকে মূল আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া হিরা, স্বাধীন, নাহিদ, এম আই নাহিদ, অমি, নাজমু, দিগন্ত, ছোটন ওরফে তুসার, শাওন, ইমনসহ আরও অনেকে হামলায় জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই ফাহিম খন্দকার বলেন,'আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ঝামেলা হয়েছিল, সেটার সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম না। আমার ভাই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে, তখন তার সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়ায় হামলাকারীরা। এ বিষয় নিয়েই তারা আমার ভাইকে পিটিয়ে হত্যা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।'
পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, 'ইতিমধ্যেই অভিযান চালিয়ে চারজনকে (মাহিন, নাহিদ , ছোটন, হিরা) আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা এফআইআর করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।'