০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:১২

সিলেট টেস্টের নিয়ন্ত্রণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ-বাংলাদেশ ম্যাচ  © সংগৃহীত

কেভেম হজের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে সিলেট টেস্টে চালকের আসনে বসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে বড় লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে সফরকারীরা। দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান তুলেছে ক্যারিবীয়রা। প্রথম ইনিংসের ৩০ রানের ঘাটতি পুষিয়ে নিয়ে তাদের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ৩১৫ রানে। শেষ দিনে বাংলাদেশকে বড় লক্ষ্য দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রথম ইনিংসে ৩০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৭ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনের পুরোটা সময়ই ক্যারিবীয় ব্যাটারদের সামনে কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা।

দিনের শুরুতে ওপেনার কিং ও জশুয়া ডি সিলভা সাবলীল ব্যাটিংয়ে প্রথম উইকেটে যোগ করেন ৮৫ রান। শেষ পর্যন্ত বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের শিকার হয়ে ভাঙে এই জুটি। এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ৩৬ রান করে ফেরেন সিলভা।

অন্যপ্রান্তে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাটিং চালিয়ে যান কিং। তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ অর্ধশতক। তবে ব্যক্তিগত ৬১ রানে অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের বলে আউট হন তিনি। ৮৪ বলের ইনিংসে ১০ চার ও একটি ছক্কা মারেন এই ওপেনার।

দ্রুত দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকরা। বরং কেভেম হজ ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যামের দৃঢ়তায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ১৩১ রানের দারুণ জুটি।

প্রথম ইনিংসে ৬১ রান করা উইকহ্যাম দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নেন অর্ধশতক। এক্সট্রা কাভার দিয়ে দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৬৮ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি। অভিষেকেই প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির হাতছানিও পাচ্ছিলেন তিনি। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তাইজুলের বলে আলতো করে খেলতে গিয়ে সরাসরি বোলারের হাতেই ক্যাচ তুলে দেন উইকহ্যাম। ৭৮ রানেই থামে তার ইনিংস।

দিন শেষে তাইজুলের শিকার ২ উইকেট। ১১৮ রান খরচ করে উইকেট দুটি নিয়েছেন এই বাঁ-হাতি স্পিনার।

অন্যদিকে কোনো চাপের তোয়াক্কা না করে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান হজ। তাইজুলকে স্কয়ার লেগের দিকে সুইপ করে এক রান নিয়ে ১৪২ বলে পূর্ণ করেন নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। দিন শেষে ১৪০ রানে অপরাজিত রয়েছেন তিনি।

প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা আমির জাঙ্গুও অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। তার সংগ্রহ ২০ রান। শেষ পর্যন্ত আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই চতুর্থ দিনের খেলা বন্ধ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।

এর আগে হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রানে অলআউট হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৯০ রান খরচায় ৬ উইকেট নিয়েছিলেন এই পেসার। জবাবে তাওহীদ হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের অসাধারণ ইনিংসে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৩৮৬ রান। ফলে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিকরা।