হৃদয়ের অবিশ্বাস্য কীর্তি, প্রথম সেঞ্চুরিতেই ডাবল সেঞ্চুরি
সিলেট টেস্টে ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়লেন তাওহীদ হৃদয়। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায় লিখলেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলকই নয়, প্রথম ইনিংসে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৩০ রানের লিডও পায় বাংলাদেশ।
জোমেল ওয়ারিক্যানের বল মিড অনে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নিয়ে ৩০৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হৃদয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে নিজের অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন হৃদয়। তার আগে মুশফিকুর রহিম (তিনবার), সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের এই কীর্তি ছিল।
হৃদয়ের অবিশ্বাস্য ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংসে সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের আউটের মধ্য দিয়ে শেষ হয় স্বাগতিকদের ইনিংস। চোটের কারণে ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি ওপেনার সাদমান ইসলাম। ফলে সঙ্গীর অভাবে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকতে হয় হৃদয়কে।
৩৫৯ বলে ২২ চার ও ১১ ছক্কায় ২৪২ রান করেন তিনি। তার এই ইনিংসটি এখন টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের শুরু থেকেই চাপে ছিল বাংলাদেশ। ২২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর একপ্রান্ত আগলে দলের হাল ধরেন হৃদয়। একের পর এক উইকেট পড়লেও দারুণ ধৈর্য ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান তিনি।
তৃতীয় দিনের সকালে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ব্যাটিং শুরু করেন হৃদয়। তবে দিনের প্রথম সেশনেই মুশফিক ও লিটন দাসকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর মিরাজ ও হাসান মাহমুদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তবে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে ১১৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন হৃদয়। পাঁজরে বলের আঘাত পেয়েও চালিয়ে যান ব্যাটিং।
১০৯ বলে ফিফটি ও ১৭১ বলে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করা হৃদয় এরপরও থামেননি। দেড়শ পেরিয়ে ভেঙেছেন সিলেটে টেস্টের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড। ছাড়িয়ে গেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহও। শেষ পর্যন্ত ৩০৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। এক ইনিংসে ৮ ছক্কা মেরে তামিম ইকবালের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান হৃদয়। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল মুশফিকুর রহিমের ২১৯ রান।