০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:০৩

ডাবল সেঞ্চুরি পেতে হৃদয়ে ভরসা তাসকিন, সাদমানের বদলে কেউ ব্যাট করতে পারবে কি—আইসিসির নিয়ম কি বলে

সাদমান ও হৃদয়   © সংগৃহীত


সিলেট টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১০ রান দূরে রয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন তাসকিন আহমেদ। তবে বাংলাদেশের ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ায় হৃদয়ের এই মাইলফলক ছোঁয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। তাসকিন আউট হলেই বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয়ে যেতে পারে। কারণ, বাঁ পায়ের গোড়ালিতে চোট পাওয়া ওপেনার সাদমান ইসলাম ব্যাট করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আর আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের চোটে তার পরিবর্তে অন্য কোনো ব্যাটার নামানোর সুযোগ নেই।

সাদমানের চোটের কারণে অন্তত প্রথম ইনিংসে ব্যাট করার মতো অবস্থায় নেই তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তার পায়ের স্ক্যান করিয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর চোটের ধরন এবং মাঠের বাইরে কত দিন থাকতে হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

বাংলাদেশ দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘সাদমান আজ বাঁ পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা পেয়েছে। পরবর্তীতে আর ফিল্ডিং করতে পারেনি। আমরা ওকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। পাশাপাশি স্ক্যান করানো হয়েছে। মনে হয়েছে ওর একটা চোট আছে। আগামীকাল (আজ) স্ক্যানের রিপোর্ট পাব। তারপর বিস্তারিত জানা যাবে, কতদিন লাগতে পারে। এই মুহূর্তে ও প্রথম ইনিংসে ব্যাট করার মতো অবস্থানে নেই।’

ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় চোট পেলে তার পরিবর্তে মাঠে ফিল্ডিং করার জন্য বদলি খেলোয়াড় নামানো যায়। তবে মাথায় আঘাতজনিত চোট ছাড়া অন্য কোনো কারণে সরাসরি ব্যাট করার জন্য বদলি খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ নেই। আইসিসির নিয়মে কনকাশন সাব বা মাথায় আঘাতজনিত চোটের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বদলি খেলোয়াড় নেওয়া যায়। তিনি ব্যাটিং ও বোলিং—দুই-ই করতে পারেন। কিন্তু সাদমানের চোট গোড়ালিতে হওয়ায় তার পরিবর্তে কনকাশন সাব নেওয়ার সুযোগ নেই।

অবশ্য সাদমানের ব্যাটিং পজিশনে অন্য কোনো নিয়মিত খেলোয়াড়কে নামানো যায়। বাংলাদেশ দল এরই মধ্যে তার পরিবর্তে স্পিনার নাঈম হাসানকে ওপেনিংয়ে পাঠিয়েছে। তবে সাদমান শেষ পর্যন্ত ব্যাট করতে না পারলে বাংলাদেশকে কার্যত একজন ব্যাটার কম নিয়েই ইনিংস শেষ করতে হবে। ফলে তাসকিন আউট হলে হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার সুযোগও শেষ হয়ে যেতে পারে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের অষ্টম ওভারে ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পান সাদমান। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে আমির জাঙ্গুর লেগ গ্ল্যান্সে বল ফাইন লেগের দিকে চলে যায়। বলটি থামাতে দৌড়ে গিয়ে সীমানার কাছে স্লাইড করেন সাদমান। এ সময় ঘাসে পা পিছলে বাঁ পায়ের গোড়ালিতে আঘাত পান তিনি।

চোট পাওয়ার পর মাঠেই ব্যথায় কাতরাতে দেখা যায় এই ওপেনারকে। দ্রুত তার কাছে ছুটে যান দলের ফিজিও ও সতীর্থরা। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় স্ট্রেচারে করে তাকে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। পরে উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ অবস্থায় হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পথে বড় ভরসা হয়ে আছেন তাসকিন। তার সঙ্গে শেষ উইকেটের জুটি কতটা এগোয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে তাসকিন ফিরে গেলে সাদমানের ব্যাট করতে না পারার শঙ্কায় হৃদয়ের ব্যক্তিগত মাইলফলক অধরাই থেকে যেতে পারে।