শ্রীলংকাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান
শ্রীলংকাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। শনিবার (৩১ অক্টোবর) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ফাইনালে জয়ের জন্য ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৯ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। পাকিস্তানের জয়ে ব্যাট হাতে বড় অবদান রাখেন ফখর জামান, সাদ বেগ ও আরাফাত মিনহাস।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে কামিন্দু মেন্ডিসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে ৩২৫ রান সংগ্রহ করে শ্রীলংকা। দলের পক্ষে ১৩১ রান করেন কামিন্দু। এ ছাড়া পবন রত্নায়েক খেলেন ৭৭ রানের ইনিংস।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে পাকিস্তান। মাত্র ১৪ রানে ২ উইকেট হারায় দলটি। সেখান থেকে ফখর জামান ও সাদ বেগের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। তৃতীয় উইকেটে ১৪০ বলে ১৪৯ রানের জুটি গড়েন তারা। দলীয় ১৬৩ রানে বিচ্ছিন্ন হয় এই জুটি। তার আগে ৭৫ বলে ১১টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৭৪ রান করে ফেরেন সাদ বেগ।
এরপর সালমান আলি আগাকে সঙ্গে নিয়ে ৪১ বলে ৫৭ রানের জুটি গড়েন ফখর জামান। একপর্যায়ে ৩ উইকেটে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২২০ রান। তবে এরপর মাত্র ১০ রানের ব্যবধানে ফখর জামান ও সালমান আলি আগার উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে পাকিস্তান।
এ অবস্থায় আরাফাত মিনহাস ও হাসান নওয়াজের ব্যাটে জয়ের পথে এগিয়ে যায় দলটি। ষষ্ঠ উইকেটে ৬৫ বলে ৯৪ রানের জুটি গড়েন তারা। জয়ের জন্য শেষ ১৫ বলে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল মাত্র ২ রান। তবে এমন সময় পরপর দুই বলে ২ উইকেট হারায় দলটি। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ছক্কা হাঁকিয়ে ৯ বল হাতে রেখেই পাকিস্তানের ৩ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ১২৭ রান করেন ওপেনার ফখর জামান। ৯৯ বলের ইনিংসটি সাজাতে তিনি ১১টি চার ও ৬টি ছক্কা মারেন। সাদ বেগ ৭৫ বলে ১১টি বাউন্ডারির সাহায্যে করেন ৭৪ রান। আরাফাত মিনহাস মাত্র ৩১ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় করেন ৬১ রান। অন্যদিকে হাসান নওয়াজ ৪৫ বলে ৩৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে শ্রীলংকা। উদ্বোধনী জুটিতে ৮৭ রান যোগ করেন দুই ওপেনার। ৪৯ বলে ৩টি চার ও একটি ছক্কায় ৩৮ রান করে ফেরেন আভিস্কা ফার্নান্দো। এরপর কুশাল মেন্ডিসকে নিয়ে ২২ রানের জুটি গড়েন কামিন্দু মেন্ডিস।
তৃতীয় উইকেটে পবন রত্নায়েককে সঙ্গে নিয়ে বড় জুটি গড়েন কামিন্দু। দুজন মিলে ১১৯ বলে যোগ করেন ১৪৬ রান। এই জুটির সুবাদেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৭তম ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান কামিন্দু মেন্ডিস।
ইনিংসের ৪১.১ ওভারে দলীয় ২৫৫ রানে আউট হন কামিন্দু। সাজঘরে ফেরার আগে ১২৮ বলে ১২টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৩১ রান করেন তিনি। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলংকা। তবে পবন রত্নায়েকের ৬৫ বলে ৮টি ছক্কায় সাজানো ৭৭ রানের ইনিংসে ভর করে ৮ উইকেটে ৩২৫ রানের বড় সংগ্রহ পায় দলটি।
পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে দুটি করে উইকেট নেন তিন পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ ও নাসিম শাহ। অফ স্পিনার সালমান আলি আগাও নেন ২ উইকেট।
ত্রিদেশীয় সিরিজের অপর দল ছিল ইংল্যান্ড। পাকিস্তান সফরে চার ম্যাচ খেলে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে তারা। শ্রীলংকার বিপক্ষে ৪২৯ রান তুলেও হারের মুখ দেখে ইংলিশরা। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে শ্রীলংকাকে হারিয়ে সিরিজের শিরোপা নিজেদের করে নেয় পাকিস্তান।