আলোকস্বল্পতায় টানা তৃতীয় দিন আগেভাগে খেলা শেষ
মিরপুর টেস্টে যেন আলোকস্বল্পতাই হয়ে উঠেছে বড় বাধা। টানা তৃতীয় দিনের মতো নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হলো খেলা। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পরও আলোর স্বাভাবিকতা না ফেরায় বিকেল ৪টা ২৮ মিনিটে দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন ম্যাচ অফিশিয়ালরা। এর আগে নাঈম ও জাকেরের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে যোগ হয়েছে ২৬ রান।
এর আগে ব্যাটিংয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে একের পর এক উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা ধুঁকছে। তবে নাঈম হাসান ও জাকের আলীর ব্যাটে শেষ দিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে। দিন শেষে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে।
এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই জেডেন সিলসের সতীর্থ আলজারি জোসেফের বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান। প্রথম ইনিংসে ৭ রান করা এই ওপেনার এবার রানের খাতাই খুলতে পারেননি।
তিন নম্বরে নেমে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন সাদমান ইসলাম। তবে ১৩ রান করে সাদমানের বিদায়ে ভাঙে সেই জুটি।
এরপর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামান রোস্টন চেজ। একই ওভারের প্রথম বলে সাদমানকে বোল্ড করার পর চতুর্থ বলে তাওহীদ হৃদয়কে ফিরিয়ে দেন তিনি। বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন হৃদয়।
চেজের ঘূর্ণিতে এরপর সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক শান্তও। এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি।
শান্তর বিদায়ের পর কনকাশন সাব হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামেন জাকের আলী। মুমিনুল হকের পরিবর্তে ক্রিজে নেমে দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার দায়িত্ব নেন তিনি।
এরপর জাকেরকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে আসেন নাঈম হাসান। দুজনের ব্যাটে ধীরে ধীরে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। তবে তৃতীয় সেশনে খেলা শুরুর পরপরই আবারও বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দিনের খেলা পুনরায় শুরুর পর প্রথম ওভারেই লিটন দাসকে এলবিডব্লিউ করেন কেভিন সিনক্লেয়ারের সতীর্থ ওয়ারিক্যান। রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি ৪ রান করা লিটন।
লিটনের বিদায়ের পরপরই একই বোলারের শিকার হন মেহেদী হাসান মিরাজ। গুড লেংথে পড়া ওয়ারিক্যানের বলটি অতিরিক্ত বাউন্স নিয়ে দ্রুত ভেতরে ঢুকে মিরাজের ব্যাটের ফাঁক গলে সরাসরি আঘাত করে স্টাম্পে। ৯ রান করে ফেরেন তিনি। লিটনের আউট থেকে মাত্র ২০ বলের ব্যবধানে তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এর আগে দিনের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। নাঈম হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২৪৫ রানে থামে ক্যারিবীয়দের ইনিংস। বল হাতে চার উইকেট শিকার করেন নাঈম। তাতে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে সেই লিডকে বড় করার পথে বড় বাধার মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে তুলে দেয় তারা। শেষ পর্যন্ত নাঈম ও জাকেরের প্রতিরোধে লিড ১০৬ রানে পৌঁছালেও ম্যাচের চিত্র এখনো বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়।
দিনের বাকি সময় আলোকস্বল্পতায় খেলা না হওয়ায় আপাতত অপেক্ষা পরবর্তী অর্থাৎ চতুর্থ দিনের। ১০৬ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ কত দূর যেতে পারে, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ কত দ্রুত স্বাগতিকদের ইনিংস গুটিয়ে দিতে পারে—ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে সেটিই হয়ে উঠবে গুরুত্বপূর্ণ।