২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৩৮

টি-টেন লিগের এনওসি পাচ্ছেন না ৪ ক্রিকেটার

টি-টেন লিগের এনওসি পাচ্ছেন না ৪ ক্রিকেটার  © সংগৃহীত

আবুধাবি টি-টেন লিগের পরবর্তী মৌসুমে বাংলাদেশের ৪ ক্রিকেটার শেখ মেহেদী হাসান, নুরুল হাসান সোহান, শামীম হোসেন পাটোয়ারী এবং হাবিবুর রহমান সোহানের খেলার কথা ছিল। তবে এনওসি পাচ্ছেন না তাদের কেউই।

এই ব্যাপারে একটি বিবৃতি দিয়েছেন ইউনাইটেড টাইগার্সের মালিক জাফির ইয়াসিন চৌধুরী। যেখানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। ইয়াসিন জানিয়েছেন, ‘চলতি মৌসুমের আবুধাবি টি-টেন লিগের জন্য ইউনাইটেড টাইগার্সের নির্বাচিত চার বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না দেওয়ার ঘটনায় আমি গভীর হতাশা প্রকাশ করছি।’

বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, ‘বছরের পর বছর ধরে গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি কানাডা, লঙ্কা টি-টেন সুপার লিগ এবং জিমআফ্রো টি-টেন লিগসহ বিশ্বের বিভিন্ন বড় টুর্নামেন্টে আমাদের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়া এবং প্রতিষ্ঠিত তারকাদের পাশাপাশি উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায়, চলতি মৌসুমের আবুধাবি টি-টেন লিগের জন্য ইউনাইটেড টাইগার্স চারজন বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে নির্বাচন করে। এবারের প্রতিযোগিতায় আমরাই একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি, যারা বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের দলে নিয়েছে। ফখর জামানের অধিনায়কত্বে আমরা বিশ্বাস করেছিলাম, এই টুর্নামেন্ট তাদের অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার এবং একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠবে।’

‘তাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড খেলোয়াড়দের এনওসি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন খবর জানা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। বিশেষ করে, আমাদের জানা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে তাদের কোনো আন্তর্জাতিক দায়িত্ব নেই। বাংলাদেশের খেলোয়াড় এবং আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততাকে সরাসরি প্রভাবিত করে, এমন বিষয়ে তার নেতৃত্ব থেকে আমরা আরও স্পষ্টতা ও সমন্বয় আশা করেছিলাম।’

বিবৃতি আরও বলা হয়েছে, ‘আমাদের উদ্বেগ কেবল চারজন খেলোয়াড়কে হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সঙ্গে কয়েক মাসের পরিকল্পনা, খেলোয়াড় সংগ্রহ, কৌশলগত প্রস্তুতি এবং উল্লেখযোগ্য আর্থিক বিনিয়োগ জড়িত থাকে। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে কোনো বিধিনিষেধ থাকলে, আমাদের বিশ্বাস, খেলোয়াড়দের নিবন্ধন এবং ড্রাফটে অংশ নেওয়ার আগেই তা জানিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। সিদ্ধান্তটি জানানোর আগে পুরো প্রক্রিয়াকে এই পর্যায় পর্যন্ত এগিয়ে যেতে দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা, যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। দল গঠন সম্পন্ন হওয়ার পর এবং টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ১৫ দিন আগে এই সিদ্ধান্ত পাওয়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজি, এর মালিকপক্ষ এবং টিম ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।’ 

‘চলতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) অনুষ্ঠিত না হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিপিএল না হওয়ায় আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া - উভয় পর্যায়ের বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। খেলোয়াড়রা শুধু আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হননি, বরং মূল্যবান প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা অর্জন, আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি এবং উচ্চমানের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।’ 

এতে বলা হয়েছে, ‘ইউনাইটেড টাইগার্সের হয়ে আবুধাবি টি-টেন লিগে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে এই খেলোয়াড়দের কয়েকজনের জন্য সেই ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ করা সম্ভব হতো। এমন এক সময়ে, যখন তাদের সামনে সুযোগ ইতোমধ্যেই সীমিত হয়ে এসেছে, তখন এই টুর্নামেন্ট তাদের একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক মঞ্চ, মূল্যবান ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা এবং প্রতিষ্ঠিত বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দিত।’ 

‘ইউনাইটেড টাইগার্সের নির্বাচিত কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে আমি ব্যক্তিগতভাবেও কথা বলেছি। তারা এই পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের হতাশার কথা জানিয়েছেন। টুর্নামেন্ট চলাকালে কোনো আন্তর্জাতিক দায়িত্ব না থাকায়, আগে থেকেই নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের হতাশ হওয়াটা স্বাভাবিক। নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আরও দূরদর্শিতা ও কার্যকর যোগাযোগ থাকলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো। এতে শুধু ইউনাইটেড টাইগার্স নয়, খেলোয়াড়েরা নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে বাংলাদেশি প্রতিভাদের দলে নিতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতাগুলোতে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের দলে নিতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। খেলোয়াড় সংগ্রহ, পরিকল্পনা এবং আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরণের পরও যদি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা নিয়ে নিশ্চিত হতে না পারে, তাহলে বাংলাদেশি প্রতিভাদের পেছনে বিনিয়োগ করতে তারা স্বাভাবিকভাবেই অনীহা বোধ করতে পারে। শেষ পর্যন্ত এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ, অভিজ্ঞতা অর্জন ও সুযোগের পরিসর সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি তাদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’ 

‘আমরা সব সময় গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তুলে ধরেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা। বাংলাদেশে অসাধারণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার এবং ক্রিকেটের প্রতি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। এমন এক সময়ে, যখন আমাদের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আরও বেশি সুযোগ ও পথ তৈরি করা প্রয়োজন, তখন আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ক্রিকেটের নেতৃত্বের উচিত তাদের ঘিরে আস্থা, স্থিতিশীলতা ও সুযোগ তৈরি করা, অনিশ্চয়তা নয়।’ 

উল্লেখ্য, আগামী ৭ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত আবুধাবি টি-টেন লিগের পরের মৌসুম চলবে। যেখানে ৪ বাংলাদেশির ইউনাইটেড টাইগার্সে খেলার কথা ছিল।