২১ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৯

অঘোষিত ফাইনালে অল্পতেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ দল  © সংগৃহীত

শুরুর মতো শেষটাও হলো হতাশার। ইনিংসের শুরুতে দ্রুত উইকেট হারানোর পর শেষ দিকেও সেই ধাক্কা সামলে উঠতে পারল না বাংলাদেশ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা। এতে ৫০ ওভারের কোটা পেরোনোর আগেই গুঁড়িয়ে যায় লাল-সবুজের ব্যাটিং লাইন-আপ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪১ দশমিক ২ ওভারে মাত্র ১৬০ রানেই থেমেছে বাংলাদেশ। দলের হয়ে ৯৬ বলে ২ ছক্কা আর ৫ চারে সর্বোচ্চ ৭০ রানের ইনিংস খেলেন পারভেজ হোসেন ইমন।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ২৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে টাইগাররা। এতে শুরুতেই চাপ বেড়ে যায় লাল-সবুজ শিবিরে।

যদিও আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের প্রথম ওভারে ৪ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। পরের ওভারে বল করতে এসে পরপর দুই ওয়াইড দিয়ে শুরু করেন ইয়ামিন আহমেদজাই। তবে তার দ্বিতীয় বৈধ ডেলিভারিতেই উইকেটের পেছনে রহমানউল্লাহ গুরবাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ।

পরের বলেই অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে থাকা বল কাট করতে গিয়ে নিজের স্টাম্পে টেনে আনেন সৌম্য সরকার। এতে স্কোরশিটে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই পরপর ২ বলে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর ব্যাট হাতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু ২৩ বলে ১৫ রান করে তিনিও উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তার বিদায়ের পর ক্রিজে আসা অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ।

আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের একটু ফুলার লেংথের বল লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে ব্যাটের মুখ আগেভাগেই বন্ধ করে দেন হৃদয়। তাতেই লিডিং এজ। নিজের বলে নিজেই দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে হৃদয়কে ফেরান ওমরজাই। ২ বল খেলে কোনো রান করতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক।

সেখান থেকে পঞ্চম উইকেটে পারভেজ হোসেন ও সাইফ হাসান ৯২ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন। তাদের ব্যাটে ভর করেই ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগে বাংলাদেশের।

তবে দলীয় ১২১ রানে সাইফের বিদায়ের পর আবারও ছন্দপতন ঘটে লাল-সবুজ শিবিরের ব্যাটিংয়ে। এরপর বাকি ৫ উইকেটে মাত্র ৩৯ রান যোগ করতেই গুটিয়ে যায় পুরো দল। অর্থাৎ, শুরুতে ২৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর শেষদিকে ৩৯ রানের ব্যবধানে পড়েছে আরও ৬ উইকেট।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেছেন ইমন। ৯৬ বলের ইনিংসে তিনিই ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা। অন্যদিকে সাইফ হাসান ৮২ বলে করেছেন ৪১ রান। পঞ্চম উইকেটে তাদের গুরুত্বপূর্ণ জুটিই প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে দলকে সম্মানজনক অবস্থানে নেওয়ার পথ তৈরি করেছিল। কিন্তু জুটি ভাঙার পর আর কেউ হাল ধরতে পারেননি।

বাকি ব্যাটারদের মধ্যে শান্ত ছাড়া আর কেউই দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি। ২৩ বলে ১৫ রান করেছেন টপ-অর্ডার এই ব্যাটার। বাকি ৮ জনই এক অঙ্ক ছুঁয়ে ফেরেন; এর মধ্যে রানের খাতা খোলার আগেই অর্থাৎ ডাক খেয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৪১ দশমিক ২ ওভারে ১৬০ (সাইফ ৪১, তানজিদ ১, সৌম‍্য ০, শান্ত ১৫, হৃদয় ০, পারভেজ ৭০, মিরাজ ২, শরিফুল ৭, আলিস ০, তাসকিন ২*, মুস্তাফিজ ০; ওমারজাই ৭-০-২৭-২, ইয়ামিন ৬-০-২১-২, বিলাল ৬-০-২৩-১, গাজানফার ৫-০-১২-০, রশিদ ৮.২-০-৩১-৪, নাবি ৯-০-৩৫-১)