বাংলাদেশকে হতাশয় ডুবিয়ে ‘অবিশ্বাস্য ড্র’ আফগানিস্তানের
জয়ের জন্য শেষ দিনে ৭ উইকেট দরকার ছিল বাংলাদেশের। তবে কার্যত সহজ সেই কাজটাই করতে পারল না লাল-সবুজেরা। টাইগারদের একরাশ হতাশায় ডুবিয়ে আবুধাবি টেস্টে অবিশ্বাস্য ড্র'ই আদায় করে নিয়েছে আফগানিস্তান।
দিনের শুরুতে ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল আফগানিস্তান। শুরু থেকেই সতর্ক ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলারদের সামাল দিচ্ছিল তারা। হাশমতউল্লাহ শহিদি রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়লে ক্রিজে আসেন ইকরাম আলিখিল। ওপেনার সেদিকউল্লাহ আতালকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচে ড্র কিংবা জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেন তিনি।
তবে দলীয় ২০২ রানে থামে ইকরামের ইনিংস। এবাদতের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৬৯ বলে ৩৩ রান করেন এই ব্যাটার। ইনিংসে এবাদতের তৃতীয় শিকার এটি। তার সাফল্যের স্বস্তি নিয়ে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় সেশনে আতাল ও ইসমত আলমের জুটিতে সফরকারীদের চাপে রাখে আফগানিস্তান। তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারও ছুঁয়ে নেন আতাল। তবে মিরাজের স্পিন-বিষে ৬০ বলে ৪ রান করা ইসমত সাজঘরে ফিরলে ফের স্বস্তিতে ফেরে টাইগাররা। চা-বিরতির আগে শহিদিকেও ফেরান মিরাজ।
তবে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে রীতিমত একাই লড়াই জিইয়ে রেখেছিলেন আতাল। তাকে ঘিরেই আবধাবি টেস্ট ড্রয়ের স্বপ্ন বুনেছিল আফগানিস্তান। তবে পঞ্চম ও শেষ দিনের শেষবেলায় এসে আক্ষেপেই পুরলেন এই ওপেনার।
তাকে ফিরিয়ে ম্যাচে বড় ব্রেক-থ্রু পায় বাংলাদেশ। লেগ স্টাম্প লাইনে করা তাইজুল ইসলামের লেংথ বলটি ব্যাটের কানায় লেগে প্যাডে আঘাত করে লাফিয়ে ওঠে। শর্ট লেগে থাকা তামিমের হাতে জমা পড়ে বল। আউটের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নেন আতাল। কিন্তু রিপ্লেতে ব্যাটে বলের স্পষ্ট স্পর্শ ধরা পড়ায় তার ফেরার সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। ফেরার আগে ৩৩২ বলে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ১১১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন এই ওপেনার।
আতালের বিদায়ে বড় ধাক্কা খায় আফগানিস্তানের ড্রয়ের আশা। তবে ১৪২ ওভার বোলিং করেও স্বাগতিকদের অলআউট করতে পারেনি বাংলাদেশ। পঞ্চম দিনের খেলা শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৪৬ রান সংগ্রহ করে ম্যাচ ড্র করেছে আফগানরা।
শেষ পর্যন্ত ক্রিজে অবিচল ছিলেন কাইস। ৮০ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাকে ফেরাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত বাকি দুই উইকেটও তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। এতে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে টাইগারদের।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরী। দুজনই শিকার করেন ৩টি করে উইকেট। এ ছাড়া তাইজুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ নেন ১টি করে উইকেট।
এর আগে, নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। তামিমের ৮৩, সাদমান ইসলামের ৬৭ ও লিটন দাসের ৫৩ রানের ইনিংসে ভর করে এই পুঁজি পায় টাইগাররা। জবাবে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস থামে ২৪০ রানে।
পেসারদের জন্য খুব বেশি সহায়ক না থাকা উইকেটেও দুর্দান্ত বোলিং করেন হাসান মাহমুদ। হ্যাটট্রিকের পর ফাইফার তুলে নেন তিনি। এবাদত নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের হয়ে সেঞ্চুরি করেন রহমত শাহ, আর আব্দুল মালিকের ব্যাট থেকে আসে ৬২ রান।
এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে লিটন দাসের শতক এবং মুশফিকুর রহিম, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের অর্ধশতকে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রান।