০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৩

সোনার জয়ের স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশের কপালে ব্রোঞ্জও জুটল না

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল   © সংগৃহীত

এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে জাপানে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেই স্বপ্ন তো পূরণ হয়ইনি, শেষ পর্যন্ত ব্রোঞ্জ পদকও জুটল না। শনিবার (৩ অক্টোবর) তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হেরে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে প্রথমবার কোনো পদক ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

নিসশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান করে শ্রীলঙ্কা। জবাবে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ ১৭ দশমিক ৩ ওভারে মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয়। ফলে ব্রোঞ্জ পদক জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা।

এশিয়ান গেমসের এবারের আসরে সোনা জয়ের লক্ষ্য জানিয়েই জাপানে গিয়েছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ১৫ সদস্যের দলে অধিনায়ক লিটন দাস, মুস্তাফিজুর রহমান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, রিশাদ হোসেন, মেহেদী হাসানসহ জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন পরিচিত ক্রিকেটারকে রেখেছিল। আগের আসরে ব্রোঞ্জ জেতা বাংলাদেশ এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে সোনা জয়ের লক্ষ্য নিয়েছিল।

কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বৃষ্টির কারণে কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ না খেলেই সেমিফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। এরপর পাকিস্তানের কাছে সেমিফাইনালে হেরে যায় লিটন দাসের দল। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত পদকহীন থাকতে হলো বাংলাদেশকে।

ম্যাচে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধসে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। প্রথম দুই ওভারেই দুই উইকেট হারায় দলটি। এরপরও বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। অধিনায়ক লিটন দাস আগের ম্যাচে করেছিলেন মাত্র দুই রান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আরও হতাশ করেন তিনি। প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে গোল্ডেন ডাক নিয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন।

বাংলাদেশের প্রথম তিন ব্যাটার সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান ও লিটন দাস—তিনজনই কোনো রান করতে পারেননি। এরপর তাওহিদ হৃদয়ও দ্রুত ফিরে গেলে ১৮ রানেই চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কার বোলারদের সামনে এরপরও প্রতিরোধ গড়তে পারেনি বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইনআপ। পারভেজ হোসেন ইমন ও ইয়াসির আলী কিছুটা চেষ্টা করলেও বড় জুটি গড়তে পারেননি। ৫০ থেকে ৭২ রানের মধ্যে মাত্র ১৮ বলের ব্যবধানে আরও তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

নয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে নাসুম আহমেদ দলের সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন। ইয়াসির আলী রাব্বি করেন ২১ এবং পারভেজ হোসেন ইমন করেন ২০ রান। শেষ পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৩ ওভারে ১০২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

শ্রীলঙ্কার হয়ে থারিন্দু রত্ননায়েকে, নুয়ান থুসারা, বিজয়াকান্ত বিয়াসকান্ত ও ওয়ানুজা সাহান দুটি করে উইকেট নেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া শ্রীলঙ্কাকেও শুরুতে চাপে রেখেছিল বাংলাদেশ। দুই প্রান্ত থেকে স্পিন আক্রমণ শুরু করে চার ওভারের মধ্যেই চার উইকেট তুলে নেয় তারা। মাত্র ২১ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে শ্রীলঙ্কা।

রহস্যময় স্পিনার আলিস আল ইসলাম নিজের প্রথম স্পেলে দুর্দান্ত বোলিং করেন। তিন ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন তিনি। ১৮ বলের মধ্যে ১২টি ছিল ডট বল। মেহেদী হাসানও চার ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন।

১৩ ওভার পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার রান ছিল নিয়ন্ত্রণের মধ্যে। তবে এরপর ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন থারিন্দু রত্ননায়েকে ও সাহান আরচিগে। মুস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে এনে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ১৪তম ওভারে মুস্তাফিজ ২৫ রান দেন। ওই ওভারের প্রথম দুই বলেই চার হাঁকান শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা।

এরপর রত্ননায়েকে ও আরচিগে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ৫৪ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পর দুজন মিলে মাত্র ৪৪ বলে ৯৩ রানের জুটি গড়েন। এর মধ্যে রত্ননায়েকে করেন ৬৫ রান। তার ৩২ বলের ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও পাঁচটি ছক্কা।

১৩ থেকে ১৮ ওভারের মধ্যে শ্রীলঙ্কা ৮৩ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ১৮ ওভারে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৭ রান। পরে মুস্তাফিজুর রহমান নিজের তৃতীয় ওভারে ফিরে রত্ননায়েকেকে ফেরান। ওই ওভারে আরেকটি উইকেটও নেন তিনি।

শেষ ওভারে সাইফ হাসান দুটি উইকেট তুলে নিলে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান করে শ্রীলঙ্কা। সেই রানই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

এশিয়ান গেমসের আগের আসরে ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার লক্ষ্য ছিল তার চেয়েও বড়—সোনা। কিন্তু বৃষ্টিবিঘ্নিত টুর্নামেন্ট, সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হার এবং শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাটিং ব্যর্থতায় পদকহীন হয়েই আসর শেষ করতে হলো লিটন দাসের দলকে।