পরাজয়ের পরও ‘অজুহাত’, পাল্টা প্রশ্ন লিটনের
ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন নিয়েই এশিয়ান গেমসে পাড়ি জমিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পাকিস্তানের কাছে শোচনীয় পরাজয়ে সেমিফাইনালেই সেই স্বপ্ন থেমে গেছে। মাঠের এমন ব্যর্থতার সঙ্গেসঙ্গে ম্যাচ শেষে অধিনায়ক লিটন দাসের কিছু মন্তব্য নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। বিশেষ করে পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং, বোলিং পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘদিন অনুশীলনের বাইরে থাকার প্রসঙ্গে লিটনের ব্যাখ্যা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
নাগোয়ার টানা বৃষ্টির কারণে ম্যাচের আগে ৪ দিন উইকেট ঢাকা ছিল। উইকেটে ফাটল থাকায় দুই দলই একাদশে একাধিক স্পিনার রেখেছিল। এমন স্পিনবান্ধব কন্ডিশনেও মুস্তাফিজুরকে দিয়ে দুই ওভার বোলিং করিয়েছেন লিটন। প্রথম ওভারেই ১৮ রান দেওয়ার পরও কেন তাকে আবার বোলিংয়ে আনা হলো, এমন প্রশ্নে উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়েন টাইগার দলপতি। তার মন্তব্য, ‘আজকে মুস্তাফিজ ৩ উইকেট পেলে আপনি এই প্রশ্ন করতেন না।’
লিটনের ভাষ্যমতে, ‘দেখেন, ও (মুস্তাফিজ) আমাদের টিমের বেস্ট বোলার অনেক বছর ধরে। তো ক্রিকেটে আপনি কখনও একই ওয়েতে যেতে পারবেন না, আপস অ্যান্ড ডাউনস থাকবে। আমার কাছে মনে হয়, তার জন্য আজকের দিনটা খুব একটা সুইটেবল ছিল না।’
সাইফ হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের মতো স্পিনারদের বোলিংয়ে ব্যবহার করেনি লাল-সবুজের অধিনায়ক। এ প্রসঙ্গেও নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিলেন লিটন। তার দাবি, ‘আমার কাছে বেস্ট অপশন মুস্তাফিজ মনে হয়েছে, আমি করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনও মনে হয় অন্য অপশন বেস্ট, আপনি করাবেন।’
ব্যাট হাতেও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি টাইগার অধিনায়ক। মাত্র ৩ বলে ২ রান করে ফেরেন লিটন। তবে ম্যাচের আগে দীর্ঘ সময় অনুশীলনের সুযোগ না পাওয়াকে নিজের ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
লিটনের ভাষায়, ‘আমরা অনেকদিন ধরে রুমে বসা, আবার আমরা টসে হেরে গেছি। তো আমাদের হাতে তো কোনো অপশন ছিল না, উইকেটটাও একটু ডিফিকাল্টি ফেস করার ছিল। যদি ভালো খেলতে পারতাম ভালো হতো, বাট এটা খুবই ইজি না যে আপনি এতদিন বসে থাকবেন এবং গিয়ে খুব এক্সট্রাঅর্ডিনারি ইনিংস খেলবেন।’
ফাইনালে উঠতে না পারার হতাশা অবশ্য স্বীকার করেছেন লিটন। তার ভাষায়, ‘স্বাভাবিক বিষয়, যখন দেশ ছাড়ি বলছিলাম যে আমরা ফাইনাল খেলতে চাই। সো ওই জায়গাটা আমরা যেতে পারিনি।’