দিনাজপুরের মেয়ে ইমান্তা এখন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে
ছেলেদের সঙ্গে অনুশীলন করে ক্রিকেটে নিজের জায়গা তৈরি করা দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের অচেনা জান্নাত ইমান্তা এবার বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা পেয়েছেন। ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার অংশগ্রহণে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাত ১০টার ফ্লাইটে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে পাকিস্তানের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার কথা রয়েছে ইমান্তার। এর আগে ২০২১ সালে দিনাজপুরের বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান তিনি।
জান্নাত ইমান্তা বোচাগঞ্জ উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের বুড়াশাহাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মেম্বার আনিসুর রহমান ও আটগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আকলিমা খাতুন দম্পতির মেয়ে।
ইমান্তার মা আকলিমা খাতুন বলেন, ‘আমি একসময় ক্রিকেট খেলতাম। কিন্তু আমি সাপোর্ট পাইনি। তাই সামনে এগোতে পারিনি। আমার মেয়ের ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ দেখে তাকে যখন সেতাবগঞ্জ ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করাতে যাই, তখন সেখানে কোনো নারী খেলোয়াড় ছিল না। তাই তারা ভর্তি নিতে চায়নি। আমি তাদের অনেক বুঝিয়ে রাজি করাই। পরে তারা ভর্তি নেয়। আমার মেয়েকে একাই ছেলেদের সঙ্গে অনুশীলন করতে হয়েছে। সেতাবগঞ্জ ক্রিকেট একাডেমির শিক্ষক ও ছেলে শিক্ষার্থীরা তাকে সবাই সহযোগিতা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরে ২০২১ সালে অচেনা জান্নাত ইমান্তা দিনাজপুর বিকেএসপিতে চান্স পায়। সেখান থেকে সে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে। সে বিভিন্ন সময় ঢাকার বিভিন্ন লিগে খেলত। সেখান থেকেই বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অন্তর্ভুক্ত হয়। আজ সে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে। আমি তার জন্য বোচাগঞ্জসহ দেশবাসীর দোয়া চাই।’
সেতাবগঞ্জ ক্রিকেট একাডেমির শিক্ষক নূর আলম বলেন, ‘আমার একাডেমিতে কোনো মেয়ে খেলোয়াড় ছিল না। এখনও নেই। প্রথমে আমি তাকে ভর্তি নিতে চাইনি। পরে তার মায়ের পীড়াপীড়িতে ভর্তি নিই। সকলের সহযোগিতায় তার নিজের প্রচেষ্টায় সে এতদূর এসেছে। এতগুলো ছেলের মাঝে মাত্র একজন মেয়ে দুই বছর কোচিং করে বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। আজ সে সফলতা পেয়েছে, বাংলাদেশের হয়ে খেলবে। এজন্য আমি আনন্দিত ও গর্বিত। আমি তার সফলতা কামনা করছি।’
২০২১ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার পর ইমান্তা বিভিন্ন সময় ঢাকার বিভিন্ন লিগে খেলেছেন। সেখানকার পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাওয়ায় তাঁর পরিবার, কোচ ও স্থানীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।