নতুন ‘সাকিব’ খুঁজছে বাংলাদেশ
প্রায় দুই বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের জার্সিতে সাকিব আল হাসানকে দেখা যাচ্ছে না। ঘরের মাঠ কিংবা বিদেশ, ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর আর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামেননি তারকা এই অলরাউন্ডার। এরপর একাধিকবার তার ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। সাকিবের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝেই তার বিকল্প তৈরির ভাবনায় এগোচ্ছেন স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ।
মিরপুরের ইনডোরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা তৈরি করছি (সাকিবের মতো অলরাউন্ডার)। এটা নিয়ে ভাবছি।’
দেশের ক্রিকেটে বাঁ-হাতি স্পিনারের অভাব নেই। অতীতে মোহাম্মদ রফিক ও আব্দুর রাজ্জাকের মতো স্পিনাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে তাইজুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ ও তানভীর ইসলামও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন। তবে তাদের মূল অবদান বোলিংয়ে। সাকিবের বিশেষত্ব ছিল ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কার্যকর বাঁ-হাতি স্পিন বোলিং।
বর্তমানে সাকিবের বয়স ৩৯ বছর। তিনি আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেও কত দিন খেলতে পারবেন, সেটিও অনিশ্চিত। তাই মুশতাকের লক্ষ্য এমন একজন বাঁ-হাতি স্পিনার খুঁজে বের করা, যে কি-না ব্যাটিংয়েও অবদান রাখতে পারবেন।
মুশতাক বলেন, ‘এমন বাঁহাতি স্পিনার খুঁজছি যে ব্যাটিংও করতে পারবে। হুট করে একটা বৃক্ষ তো গড়ে তুলতে পারবেন না। এখন একজন বাঁহাতি স্পিনার দরকার যে ব্যাটিংও করতে পারে। আশা করি দ্রুত খুঁজে পাব।’
এদিকে বাংলাদেশের পেস আক্রমণেও উঠে এসেছে নতুন সম্ভাবনা। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বোলিং করার সক্ষমতা দিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনায় এসেছেন নাহিদ রানা। তার বাউন্সার ও ইয়র্কারও প্রশংসা কুড়িয়েছে ক্রিকেট বিশ্বের বিভিন্ন মহলে। মুশতাকও রানার সামর্থ্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের এখন রানা আছে। সে ঘণ্টায় দেড়শ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বোলিং করতে পারে।’
অন্যদিকে লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেনও গেল তিন বছরে সাদা বলে স্পিন আক্রমণের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন। পিএসএল, বিগ ব্যাশে নজরকাড়া পারফর্ম করেছেন রিশাদ। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রিশাদ ১৪ উইকেট নিয়ে সাকিবের এক আসরে ১১ উইকেটের রেকর্ড ভেঙেছেন। স্পিনার তানভীর ইসলাম, নাসুম আহমেদরাও নিজেদের সেরাটা দিচ্ছেন।
স্পিনারদের প্রশংসায় ভাসিয়ে এই স্পিন বোলিং কোচ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঝের ওভারে উইকেট আনতে ভালো স্পিনার লাগবেই। তাইজুল আছে, মিরাজ আছে, সাদা বলে রিশাদ, নাসুম, তানভীররা সবাই ভালো করছে। এ কারণেই আমরা এখন অনেক সিরিজ জিততে পারছি।’