০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:৩২

আরব আমিরাতকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ কারা

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল   © সংগৃহীত

সেমিফাইনালে ওঠার জন্য জয়ের বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের সামনে। সেই সমীকরণে দারুণভাবে টিকে থাকল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ব্যাটাররা ব্যর্থ হলেও বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত। অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।

মঙ্গলবার রাতে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ‘বি’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১০৩ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ৬৯ রানের বেশি করতে পারেনি স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত।

এই জয়ে তিন ম্যাচে দুই জয় নিয়ে চার পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা।

বাংলাদেশের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন পেসার মারুফা আক্তার। নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন তিনি। ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে নিয়েছেন দুই উইকেট। তিন ম্যাচে তার শিকার এখন সাতটি।

মারুফাকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছেন লেগ স্পিনার রাবেয়া খান। একাদশে ফিরে ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন তিনি। অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার পেয়েছেন দুই উইকেট। এ ছাড়া সুলতানা খাতুন ৪ ওভারে ১০ রান দিয়ে এবং ফাহিমা খাতুন ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে একটি করে উইকেট নেন।

রান তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে পড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রথম ওভারেই অধিনায়ক ইশা ওজাকে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। পঞ্চম ওভারে সামাইরা ধরনিধরকাকে আউট করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মারুফা।

পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে মাত্র ১৫ রান করতে পারে আমিরাত। চলতি টুর্নামেন্টে পাওয়ার প্লেতে এটি তাদের সর্বনিম্ন সংগ্রহ। শুরুতেই এমন ধাক্কা খাওয়ার পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি স্বাগতিকরা।

অষ্টম ওভারে আক্রমণে এসে রিনিথা রজথকে ফেরান রাবেয়া খান। এরপর লম্বা সময় ক্রিজে থাকা ওপেনার তীর্থ সতীশকে আউট করেন সুলতানা খাতুন। এক ওভার পর লাবণ্য কেনিকে নিজের শিকারে পরিণত করেন নাহিদা আক্তার।

একপর্যায়ে মাত্র ৩৮ রানেই পাঁচ উইকেট হারায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি তারা। শেষ পর্যন্ত অলআউট না হলেও ৬৯ রানে থামে তাদের ইনিংস। তিন ম্যাচে এক জয় নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে স্বাগতিক দল।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই কোনো রান না করে ফিরে যান দিলারা আক্তার। পরের ওভারে মাত্র ৩ রান করে আউট হন সোবহানা মোস্তারি। মাত্র ৮ রানে দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস দলকে সামলানোর চেষ্টা করেন। দুজন মিলে যোগ করেন ৩১ রান। বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জুয়াইরিয়া। তার ব্যাট থেকে আসে ১৬ রান।

এরপর শারমিন আক্তার সুপ্তাকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন জ্যোতি। তবে ১১তম ওভারে নিরীহ ফুল টসে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ২৩ রান করেন তিনি।

জ্যোতির বিদায়ের পর আরও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। স্বর্ণা আক্তার ও ফাহিমা খাতুন রানের খাতা খুলতেই পারেননি। ফলে ৬ উইকেটে ৫৫ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ।

তখন ৮০ রানের মধ্যেই বাংলাদেশকে আটকে রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন শারমিন আক্তার সুপ্তা ও নাহিদা আক্তার।

চলতি আসরে প্রথমবার একাদশে সুযোগ পাওয়া সুপ্তা সহ-অধিনায়ক নাহিদাকে নিয়ে ৪৩ বলে ৪২ রানের জুটি গড়েন। সপ্তম উইকেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি এটি। তাদের ব্যাটেই মূলত একশ রানের গণ্ডি পেরোয় বাংলাদেশ।

দলের বিপর্যয়ের মধ্যে দারুণ ব্যাটিং করেন সুপ্তা। তিনটি চার মেরে ৩১ বলে ৩৮ রান করেন তিনি। অন্য প্রান্তে নাহিদা ক্যারিয়ার সেরা ১৬ রান করে অপরাজিত থাকেন।

শেষ পর্যন্ত ১০৩ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন সুরক্ষা কোটির। ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন তিনি।

১০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল আমিরাতের ব্যাটিং। শেষ পর্যন্ত ৩৪ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা।

সেমিফাইনালে বাংলাদেশের সামনে এবার শক্তিশালী ভারত। বৃহস্পতিবার দুই দলের লড়াইয়ে ফাইনালে ওঠার টিকিটের জন্য মাঠে নামবে জ্যোতির দল। অন্য সেমিফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা।