লড়াই করে শেষ ওভারে হারল বাংলাদেশ
শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে ১১৪ রানের পুঁজি গড়ার পর বল হাতে দারুণ শুরু করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিয়েছিল তারা। একসময় শ্রীলঙ্কার স্কোর ৪৪ রানে ৫ উইকেট, তখন জয়ের সুবাস পাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু হার্শিতা সামারাবিক্রমার দৃঢ় ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। শেষ ওভারে লক্ষ্য পেরিয়ে শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশকে। এ জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে উঠেছে শ্রীলঙ্কা।
মারুফা আক্তার ও সুলতানা খাতুনের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও বাংলাদেশ পারেনি, আক্ষেপটা এখানেই। ব্যাটিংয়ে ভালো শুরুর পরও স্কোরটা বড় হয়নি। তবে বল হাতে লড়াইটা ছিল চোখে পড়ার মতো। এমনকি একসময় জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হার্শিতা সামারাবিক্রমার অপরাজিত ৪৮ রানের ইনিংসে ভর করে ১১৫ রানের লক্ষ্য ৬ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।
টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের টানা সপ্তম হার। এই জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেছে শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে বাংলাদেশের সামনে এখন সমীকরণ পরিষ্কার। শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারাতেই হবে। সেই ম্যাচে জিতলেও শেষ চারে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে ভারত।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ১১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালোই করেছিল শ্রীলঙ্কা। ইনিংসের প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন মারুফা আক্তার। ফুলার লেংথের বলে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্লিপে ফাহিমা খাতুনের হাতে ক্যাচ দেন চামারি আতাপাত্তু।
নিজের দ্বিতীয় ওভারেও উইকেট তুলে নেন মারুফা। স্লোয়ার ডেলিভারিতে ইমিশা দুলানিকে বোল্ড করেন তিনি। ১৬ বলে ১২ রান করে ফেরেন এই ওপেনার।
পাওয়ার প্লের মধ্যেই তৃতীয় আঘাত হানেন সুলতানা খাতুন। সুইপ করতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন সানজানা কাভিন্দি। এরপর রিতু মনির বলে ভিশমি গুনারত্নে ক্যাচ দিলে শ্রীলঙ্কার বিপদ আরও বাড়ে। ফাহিমা খাতুনের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হন কাভিশা দিলহারি।
তখন শ্রীলঙ্কার স্কোর ৪৪ রানে ৫ উইকেট। ম্যাচ পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কিন্তু সেখান থেকেই বদলে যায় গল্প।
নিলাকশি ডি সিলভা ও হার্শিতা সামারাবিক্রমা মিলে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ। দুজনের ৩৮ রানের জুটি ভাঙেন মারুফা। ১৮ রান করা নিলাকশিকে বোল্ড করে ফেরান তিনি। তবে তাতেও থামানো যায়নি হার্শিতাকে।
একপ্রান্ত আগলে রেখে শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। অপরাজিত ৪৮ রানের ইনিংস খেলে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটের জয় এনে দেন তিনি। তার ব্যাটেই শেষ ওভারে ম্যাচের ভাগ্য নিজেদের করে নেয় শ্রীলঙ্কা। দুর্দান্ত বোলিং করে ৩ উইকেট নিয়েও দলকে জেতাতে পারেননি মারুফা। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে হার্শিতার হাতে।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ১১৪ রান করে। ৪.৫ ওভারে ৩১ রানের জুটিতে শুরুটা খারাপ করেননি বাংলাদেশের দুই ওপেনার দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। দিলারা করেন ২৬ রান, আর জুয়াইরিয়া ফেরেন ১৪ রানে।
এরপর দ্রুতই চাপে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। ৯.৫ ওভারে দলীয় ৫২ রানে দুই ওপেনারের পথ ধরে ড্রেসিংরুমে ফেরেন অধিনায়ক নিগার সুলতানাও। তিনি করেন মাত্র ৪ রান।
চতুর্থ উইকেটে স্বর্ণা আক্তারকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তিনে নামা সোবহানা মুস্তারী। তার ৩৪ রানের ইনিংসে ভর করে এগোতে থাকে বাংলাদেশ। তবে ১৭তম ওভারে মাত্র এক রানের ব্যবধানে সোবহানা ও স্বর্ণা দুজনই আউট হয়ে গেলে আবারও থমকে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
১৯তম ওভার পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোরে যোগ হয় আর মাত্র ৯ রান। এর মধ্যে নো বল থেকেই আসে ৩ রান। শেষ ওভারে অবশ্য কিছুটা স্বস্তি ফেরান ফাহিমা খাতুন। সুগান্দিকা কুমারির করা ওভারে পরপর দুটি বাউন্ডারি মেরে দলের রান কিছুটা বাড়িয়ে নেন তিনি।
তবে ইনিংসের শেষ দুই বলে ফাহিমা খাতুন ও মারুফা আক্তার আউট হয়ে গেলে ১২০ রানের কাছাকাছিও যেতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১১৪ রানেই থামে তাদের ইনিংস। সেই রান নিয়ে বোলাররা লড়াই জমিয়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত হার্শিতার ব্যাটিংয়ের কাছে হার মানতে হয় বাংলাদেশকে।