০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪২

ভারতের সঙ্গে সর্বনিম্ন রানে অলআউট পাকিস্তান, হারল বড় ব্যবধানে

ভারতের নারী দলের ক্রিকেটারদের উল্লাস   © টিডিসি ছবি

পাকিস্তান ক্রিকেটের দুঃসময় যেন কাটছেই না। ছেলেদের ক্রিকেটের টালমাটাল অবস্থার পর এবার নারী ক্রিকেটেও দেখা গেল ব্যাটিং বিপর্যয়। নারী এশিয়া কাপের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৫৫ রানে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই পাকিস্তান নারী দলের সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড।

দুবাইয়ে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালোই করেছিল পাকিস্তান। ভারতের দুই পেসারকে সামলে প্রথম চার ওভারে কোনো উইকেট হারায়নি তারা। ওই সময় পাকিস্তানের স্কোর ছিল ২৩ রান। কিন্তু স্পিনাররা বোলিংয়ে আসতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। একের পর এক উইকেট হারিয়ে দ্রুত ধসে পড়ে পাকিস্তানের ইনিংস।

পাকিস্তানের পতনের শুরু করেন শেফালি বর্মা। তাঁর বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ১৫ বলে ১৩ রান করা মুনিবা আলী। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান। ইনিংস শেষ হওয়ার ১১ বল আগেই মাত্র ৫৫ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই পাকিস্তান নারী দলের সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড। এর আগে ২০২৪ সালে এই দুবাইয়েই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৬ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান। এতদিন সেটিই ছিল তাদের সর্বনিম্ন স্কোরে অলআউট হওয়ার রেকর্ড।

ভারতের হয়ে দারুণ বোলিং করেছেন শ্রী চরণী ও প্রেমা রাওয়াত। দুজনেই নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট।

এত কম রান নিয়ে ভারতের বিপক্ষে লড়াই করাটা পাকিস্তানের বোলারদের জন্য কঠিনই ছিল। তারপরও তারা চেষ্টা করেছেন। সাদিয়া ইকবালের করা প্রথম বলেই ছক্কা মেরে ভারতের রান তাড়া শুরু করেন শেফালি বর্মা। তবে বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি।

পরের ওভারেই ফাতিমা সানার বলে সাজঘরে ফেরেন শেফালি বর্মা ও প্রতিকা রাওয়াল। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে ভারতের তারকা ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানাকেও আউট করেন ফাতিমা।

তবে ৫৫ রানের লক্ষ্য হওয়ায় ভারতের জয়ের পথে সেটি কোনো বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। হারমানপ্রীত কৌর ও দীপ্তি শর্মা মিলে ভারতকে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। মাত্র ৮.৪ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৬ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।

এই জয়ে নারী এশিয়া কাপে ভারতের সেমিফাইনাল খেলা আগেই নিশ্চিত হয়েছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াও নিশ্চিত করেছে তারা।

অন্যদিকে দুই ম্যাচ খেলে একটিতে জয় পাওয়া পাকিস্তানের সামনে এখন শেষ ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর হংকংয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাকিস্তান। সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে ওই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই তাদের।