বাবর আজমই কি পিসিবির পরবর্তী টার্গেট?
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ভরাডুবির পর পাকিস্তান ক্রিকেটে ব্যাপক রদবদল চলছে। একের পর এক ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফকে সরিয়ে দেওয়ার পর এবার অধিনায়ক বাবর আজমের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক ক্রিকেটার রশিদ লতিফ সরাসরি জানতে চেয়েছেন, পিসিবির পরবর্তী টার্গেট কি তবে বাবর?
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ব্যর্থতার পর পাকিস্তান ক্রিকেটে যেন ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭ ক্রিকেটারসহ কোচিং স্টাফের কয়েকজনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলও দায়িত্ব হারিয়েছেন। নির্বাচকের পদ ছেড়েছেন মিসবাহ-উল-হক। প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় চাপে পড়তে পারেন বলে আলোচনা চলছে।
এবার সেই রদবদলের কেন্দ্রে চলে এসেছে বাবর আজমের অধিনায়কত্বও।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পিসিবির দল পরিচালনার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার রশিদ লতিফ। তার দাবি, দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যদি বোর্ডের নিয়ন্ত্রণেই নেওয়া হয়, তাহলে কোচিং স্টাফদের সরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন কেন হলো?
আর যদি অধিনায়ক বাবর বোর্ডের নির্দেশনা অনুসরণ না করে থাকেন, তাহলে তাকেই সবার আগে দায়িত্ব থেকে সরানো উচিত ছিল কি না, সেটিও জানতে চেয়েছেন রশিদ।
সব মিলিয়ে তার প্রশ্ন, ‘বাবর আজমই কি পিসিবির পরবর্তী টার্গেট?’
এর আগেও পিসিবির সাম্প্রতিক ছাঁটাইয়ের ঘটনায় বাবরের নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন রশিদ।
তার মতে, দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফদের সরিয়ে দেওয়ার পর অধিনায়ক হিসেবে বাবরের তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল।
রশিদের যুক্তি, অধিনায়কের দায়িত্ব শুধু মাঠে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া নয়। দলের কঠিন সময়ে সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও সাপোর্ট স্টাফদের পাশে দাঁড়ানোও একজন নেতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
কিন্তু বাবরের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট নন রশিদ। তার মতে, বর্তমানে বাবর এমন এক অবস্থানে রয়েছেন, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা খুবই সীমিত। এমনকি তাকে ‘পুতুল অধিনায়ক’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
একসঙ্গে এতজন ক্রিকেটার, কোচ ও মেন্টরকে সরিয়ে দেওয়ার পরও বাবর প্রকাশ্যে তাদের সমর্থনে অবস্থান না নেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন রশিদ।
তার মতে, একজন সত্যিকারের নেতা হলে এমন পরিস্থিতিতে দলের হয়ে কথা বলা উচিত ছিল।
এক্সে দেওয়া পোস্টে লতিফ লিখেছেন, ‘দল যদি রিমোট কন্ট্রোলে চালাতেই হয়, তাহলে সরফরাজ ও উমর গুলকে পাঠানো হয়েছিল কেন? গ্যারি কার্স্টেন ও জেসন গিলেস্পির কাছ থেকে যদি নির্বাচনের ক্ষমতাই কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে তাদের দায়িত্বে রাখা হয়েছিল কেন? আর অধিনায়ক বাবর আজম যদি কথা না শুনে থাকে, তাহলে অধিনায়ককেই বরখাস্ত করা উচিত ছিল। তাহলে সরফরাজ ও উমর গুলকে দেশে ফেরত পাঠানো হলো কেন? বাবর আজমই কি পরবর্তী নিশানা?’