২৯ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪৬

২০১৮-তে চ্যাম্পিয়ন থেকে ২০২৬-এর ফাইনাল স্বপ্ন, সম্ভাবনা কেমন?

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল  © সংগৃহীত

২০১৮ সালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নতুন ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ায় ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজেরা।

পরে অবশ্য সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা জিইয়ে রাখা সম্ভব হয়ে উঠেনি। ২০২২ আসরে পঞ্চমস্থানে থেকে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন ধূলিসাৎ দিয়েই মহাদেশীয় এই লড়াই থেকে বিদায় নেয় টাইগ্রেসরা। ২০২৪ সালে আবারও শেষ চারে ভারতের কাছে ১০ উইকেটে হেরে যায় লাল-সবুজেরা।

এবার সেই আক্ষেপ পেছনে ফেলে আরও একধাপ এগিয়ে যেতে চায় জ্যোতির দল। লক্ষ্যও একটাই—সেমিফাইনালের বাধা পেরিয়ে ফাইনালে ওঠা। কিন্তু শেষ চারে ওঠার পর কেন বারবার থমকে যায় বাংলাদেশ? আর এবার সেই দেয়াল ভাঙার প্রস্তুতি কতটা?

২০২৪ নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে সেমিফাইনালে উঠেছিল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। কিন্তু বড় ব্যবধানে হেরেই বিদায় নিতে হয়। ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৮০ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। জবাবে কোনো উইকেট না হারিয়ে মাত্র ১১ ওভারেই লক্ষ্য পেরিয়ে যায় ভারত।

যদিও ২০১৮ আসরে ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের ইতিহাসে ভারতের বাইরে অন্য কোনো দলের প্রথম শিরোপা ছিল এটি। কিন্তু পরের আসরে ঘরের মাঠে ব্যর্থতার সবচেয়ে বাজে গল্প লিখে লাল-সবুজেরা। গ্রুপ পর্বই পার হতে পারেনি বাংলাদেশ। ৬ ম্যাচে দুই জয়ের বিপরীতে তিনটিতে পরাজয়ের স্বাদ নেয় স্বাগতিকরা। আর বৃষ্টিতে একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় পঞ্চমস্থানে থেকে গ্রুপ পর্বেই বিদায়ঘণ্টা বেজেছিল বাংলাদেশের।

এবার সেই আক্ষেপ পেছনে ফেলে আরও একধাপ এগিয়ে যেতে চায় জ্যোতির দল। লক্ষ্যও একটাই—সেমিফাইনালের বাধা পেরিয়ে ফাইনালে ওঠা। কিন্তু শেষ চারে ওঠার পর কেন বারবার থমকে যায় বাংলাদেশ? আর এবার সেই দেয়াল ভাঙার প্রস্তুতি কতটা?

এবারের আসরে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ। একই গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়া রয়েছে। অন্যদিকে, ‘এ’ গ্রুপে পরাশক্তি ভারত, পাকিস্তান, হংকং ও থাইল্যান্ড লড়বে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, দুই গ্রুপের শীর্ষ দলগুলো জায়গা করে সেমিফাইনালে নেবে, আর ১৩ সেপ্টেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই লড়াই।

‘প্রস্তুতি অনেক ভালো হয়েছে। কারণ, আমরা অনেকগুলো প্র্যাকটিস ম্যাচ এবার খেলেছি। আমিরাতে যেহেতু সবগুলো গেম, আমরা দুটা প্র্যাকটিস ম্যাচও খেলেছি এই জায়গায়। এবার আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ফাইনাল খেলা। কারণ, আমরা সেমিফাইনাল খেলি, বাদ পড়ে চলে আসি। বারবার এই জিনিসটাই হচ্ছে, আমরা এই বাধাটা এবার ভাঙতে চাই।’

নিগার সুলতানা জ্যোতি, অধিনায়ক, বাংলাদেশ দল

আগামী ৩১ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এশিয়া কাপ অভিযান শুরু হবে বাংলাদেশের। এরপর ৬ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কা ও ৮ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। দুবাইয়ে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় গড়াবে সবক’টি ম্যাচই।

গেল আসরের ব্যর্থতা এবারও বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে বড় শিক্ষা হয়ে আছে। বিশেষ করে বড় ম্যাচে ব্যাটিংয়ের চাপ সামলানো এবং প্রতিপক্ষের ওপর শুরু থেকেই চাপ তৈরি করার সক্ষমতা নিয়ে কাজ করতে করেছে দলটি। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিও এবার লক্ষ্যটা পরিষ্কার করেছেন। শুধু সেমিফাইনালে ওঠা নয়, এবার ফাইনালেও খেলতে চান তারা। তার মতে, গ্রুপপর্বে ভালো অবস্থানে থেকে সেমিফাইনালের আগে নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোই হবে অন্যতম চাবিকাঠি।

গেল ২৪ আগস্ট হোম অব ক্রিকেটে এক সংবাদ সম্মেলনে জ্যোতি বলেছিলেন, ‘প্রস্তুতি অনেক ভালো হয়েছে। কারণ, আমরা অনেকগুলো প্র্যাকটিস ম্যাচ এবার খেলেছি। আমিরাতে যেহেতু সবগুলো গেম, আমরা দুটা প্র্যাকটিস ম্যাচও খেলেছি এই জায়গায়। এবার আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ফাইনাল খেলা। কারণ, আমরা সেমিফাইনাল খেলি, বাদ পড়ে চলে আসি। বারবার এই জিনিসটাই হচ্ছে, আমরা এই বাধাটা এবার ভাঙতে চাই।’

‘সবশেষ আসরে আমরা ভালো খেলতে পারিনি। গ্রুপ স্টেজে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে গিয়ে আমরা সেমিফাইনালে ভারতের সাথে পড়েছিলাম। সেমিফাইনালটা আমরা পার করতে পারছি না। আমাদের ফাইনাল খেলার ইচ্ছা আছে। ধাপে ধাপে আমরা পরিকল্পনা করছি। দল হিসেবে ব্যাটিংটা মোটামুটি ভালো হয়েছে, স্পেশালি যদি টপ-অর্ডার ভালো ব্যাটিং করতে পারে এই টুর্নামেন্টে, আমার মনে হয় আমাদের একটা ভালো সুযোগ থাকবে ফাইনাল খেলার।’

নিগার সুলতানা জ্যোতি, অধিনায়ক, বাংলাদেশ দল

শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা থাকলেও সবশেষ আসরে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে সেমিতে ভারতের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। তবে এবার ধাপে ধাপে এগিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করতে চান জ্যোতি। তবে নিজেদের টপ-অর্ডার নিয়েও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি। যদিও প্রথম সারির ব্যাটারদের থেকেও ভালো কিছুর প্রত্যাশায় টাইগ্রেস অধিনায়ক।

তিনি বলেন, ‘সবশেষ আসরে আমরা ভালো খেলতে পারিনি। গ্রুপ স্টেজে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে গিয়ে আমরা সেমিফাইনালে ভারতের সাথে পড়েছিলাম। সেমিফাইনালটা আমরা পার করতে পারছি না। আমাদের ফাইনাল খেলার ইচ্ছা আছে। ধাপে ধাপে আমরা পরিকল্পনা করছি। দল হিসেবে ব্যাটিংটা মোটামুটি ভালো হয়েছে, স্পেশালি যদি টপ-অর্ডার ভালো ব্যাটিং করতে পারে এই টুর্নামেন্টে, আমার মনে হয় আমাদের একটা ভালো সুযোগ থাকবে ফাইনাল খেলার।’

বাংলাদেশ এবারের এশিয়া কাপে ভালো করতে পারে, এর পেছনেও সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, এবারের আসরে বাংলাদেশ অবশ্য কোন চমক না। বরং বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই, প্রতিপক্ষ দলও বেশ ভালোভাবেই এই বিষয়টি জেনেশুনে মাঠে নামবে।

দ্বিতীয় পরিবর্তন বলতে, বাংলাদেশ দল এখন বেশ অভিজ্ঞ। যদিও ২০১৮-এর ঐতিহাসিক দলের অনেক মুখই এখন আর নেই। তাদের জায়গায় নতুন মুখ এসেছে, যারা দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ, ব্যর্থতা এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই এশিয়ার মঞ্চে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে।

তৃতীয় বড় পরিবর্তন হলো লক্ষ্যে। ২০১৮ সালে লক্ষ্য ছিল শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে বাস্তব করা। এবার ২০২৬ সালে এসে লাল-সবুজের অধিনায়কের লক্ষ্যটা আরও নির্দিষ্ট। জ্যোতি স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, প্রথমেই নকআউট করতে চান তারা। এরপর সেমিফাইনালের বাধা পেরিয়ে ফাইনালে যাওয়াই তাদের লক্ষ্য। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন, বাংলাদেশ এখন নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে আগের চেয়ে বেশি সচেতন।

২০১৮ যে বাংলাদেশ এশিয়াকে চমকে দিয়েছিল, ২০২৬-এর বাংলাদেশ কি সেই সাফল্যকে একটি ধারাবাহিক ক্রিকেট-পরিচয়ে রূপ দিতে পারবে? উত্তরটা হয়তো দুবাইয়ের মাঠেই মিলবে, আর সেই উত্তর পাওয়ার পথে প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে ৩১ আগস্ট।