বাংলাদেশ–ভারত সিরিজ নিয়ে সুখবর
সেপ্টেম্বরে নয়, বাংলাদেশ–ভারত সিরিজ মাঠে গড়াতে পারে আগামী বছরের জানুয়ারিতে। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড ও ভারত সরকারের মধ্যে সিরিজটি আয়োজন নিয়ে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আগামী বছরের শুরুতে সিরিজটি আয়োজনের জন্য সময় চেয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই।
বিসিসিআইয়ের একটি সূত্র এএনআইকে জানিয়েছে, আগামী বছরের শুরুতে সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্রটির ভাষ্য, ‘ভারত-বাংলাদেশ সিরিজটি জানুয়ারিতে হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সরকারের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলছে। বিসিবিও আগামী বছরের শুরুর দিকে সময় চেয়েছে।’
ভারতের বাংলাদেশ সফর মূলত ২০২৫ সালের আগস্টে হওয়ার কথা ছিল। পরে সেই সফর পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিসিবি জানিয়েছিল, সফরে ভারত তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে। ঢাকায় ও চট্টগ্রামে হওয়ার কথা ছিল ম্যাচগুলো।
তবে সিরিজটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি বিসিসিআই। ফলে সফরটি শেষ পর্যন্ত কবে হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা।
সিরিজ আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়। ভারতীয় উগ্রবাদীদের রোষানলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) তাদের আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এরপর বাংলাদেশ দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে হওয়া সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দাবি করেছিল, তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হোক। তবে সেই দাবি মানেনি আইসিসি। পরে বাংলাদেশের জায়গায় বিশ্বকাপে সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্কে উন্নতির ইঙ্গিত মিলছে। এএনআই জানিয়েছে, তামিম ইকবাল বিসিবি সভাপতি হওয়ার পর সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে।
চলতি মাসের শুরুতে ভারত সফরও করেছেন তামিম। সে সময় বেঙ্গালুরুতে বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সিলেন্স পরিদর্শন করেছেন বলেও জানা গেছে।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সেপ্টেম্বরে নয়, আগামী বছরের জানুয়ারিতেই মাঠে গড়াতে পারে বহুল প্রতীক্ষিত বাংলাদেশ–ভারত সিরিজ। এখন দুই দেশের বোর্ড ও ভারত সরকারের আলোচনার ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা।