বিশ্ব কাঁপানো জয়ের পর লজ্জার হার বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয় পায় টাইগাররা। ওই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
কিন্তু সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে শুরুতেই ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা। ম্যাকেতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৬৪ রানেই অলআউট হয় দলটি। বাংলাদেশের চারজন টপ-সিক্স ব্যাটার কোনো রান করতে পারেননি।
যদিও বল হাতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশও। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪৮ রান খরচায় ৭ উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম, বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি বোলারের টেস্টে এটিই সেরা ইনিংস বোলিং। শেষ পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে ২১০ রানে অলআউট হয়ে ১৪৬ রানের লিড নেয় অস্ট্রেলিয়া।
কিন্তু রবিবার (২৩ আগস্ট) দ্বিতীয় ইনিংসে আবারও ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। টপাটপ উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় দিনের তৃতীয় ও শেষ সেশনের ৫ মিনিটের মধ্যেই গুঁটিয়ে যায় লাল-সবুজেরা। এতে ইনিংস ও ৫১ রানে লজ্জার পরাজয়ের স্বাদ নেয় শান্ত বাহিনী। এতে ১-১ সমতাতেই অস্ট্রেলিয়া অভিযান শেষ করল টিম টাইগার্স।
প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৫ রানে থামে লাল-সবুজেরা। এতে ২১ বছর পর প্রথমবার কোনো দল দুই ইনিংসেই ১০০ রানের আগে অলআউট হলো। এর আগে, ২০০৫ সালে হারারেতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৯ ও ৯৯ রানে অলআউট হয়েছিল জিম্বাবুয়ে।
এদিকে সবমিলিয়ে এই ম্যাচে মাত্র ৭৫০ বল খেলা হয়েছে, যা ১৯৩২ সালের পর অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত টেস্ট। সর্বকালের সংক্ষিপ্ততম টেস্টের তালিকায় ম্যাচ চতুর্থ এটি।
৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিং শুরু করা অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। ক্যামেরন গ্রিনকে ফেরান শরিফুল। ইনসুইং ইয়র্কারে গ্রিনের পায়ের আঙুলে আঘাত করে বল স্টাম্প ভেঙে দেয়। রিভিউ নিয়ে উইকেটটি পায় বাংলাদেশ। গ্রিন ১০৫ বলে ১০ চারে ৬৭ রান করেন। পরে জশ হ্যাজেলউডকে ৬ রানে ফেরান তাইজুল ইসলাম। এতে অস্ট্রেলিয়া লিড পায় ১৪৬ রানের।
দ্বিতীয় ইনিংসে শুরু থেকেই মিচেল স্টার্কের তোপে পড়ে বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে সাদমান ইসলামকে ১ রানে ক্যাচ বানানোর পর পরের বলেই মুমিনুল হকের অফস্টাম্প ভেঙে দেন তিনি। মাত্র ৫ রানে দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তবে ৯ রান করে প্যাট কামিন্সের বলে আউট হন তানজিদ হাসান তামিম।
প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৩৯ রান। দ্বিতীয় সেশনে শুরু হয় ব্যাটিং ধস। ৩১ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। একে একে প্যাভিলিয়নে ফেরেন অধিনায়ক শান্ত, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলাম।
স্টার্ক, কামিন্স ও নাথান লায়নের বোলিংয়ের সামনে কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। আর টানা তৃতীয় ইনিংসে ডাক মারেন লিটন।
৮ উইকেটে ৯৫ রান নিয়ে চা বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ২৯ ও তাসকিন আহমেদ ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। বিরতির পর প্রথম বলেই তাসকিনকে স্টিভ স্মিথের ক্যাচ বানান লায়ন। এরপর শরিফুল ইসলামও ডাক মারেন। লায়নের তৃতীয় শিকার হয়ে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ৯৫ রানে।