১৪৩ বছরের পুরোনো যে রেকর্ডে ভাগ বসালেন শরিফুল ইসলাম
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১৪৩ বছরের পুরোনো এক রেকর্ড নিজের নাম লেখালেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে সফরকারী কোনো বাঁহাতি পেসারের ৭ উইকেট নেওয়ার সর্বশেষ ঘটনা ছিল ১৮৮৩ সালে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২৬ সালে এসে সেই কীর্তিতে নাম লেখালেন শরিফুল।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী দলের হয়ে ৭ উইকেট নেওয়া তৃতীয় বাঁহাতি পেসার এখন ২৫ বছর বয়সী শরিফুল। এর আগে এই কীর্তি ছিল শুধু ইংল্যান্ডের দুই বাঁহাতি পেসার টম এমেট ও রিচার্ড বার্লোর।
১৮৭৯ সালে টম এমেট ৬৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন। চার বছর পর, ১৮৮৩ সালে রিচার্ড বার্লো ৪০ রানে ৭ উইকেট নিয়ে গড়েছিলেন সেই রেকর্ড। এবার ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে সেই তালিকায় যুক্ত হলেন শরিফুল।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতে গতকাল যেখানে শেষ করেছিলেন, আজ সেখান থেকেই শুরু করেন শরিফুল। প্রথম আধঘণ্টায় উইকেট না পেলেও পরে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে সেই বলের বর্ণনা এসেছে, ‘নব্বইয়ের দশকে ওয়াসিম আকরামের মতো ডেলিভারি।’
শরিফুলের করা ইয়র্কারটি একটু দেরিতে সুইং করে গ্রিনের পায়ে আঘাত করে। বলটি সামনের পায়ের বুটের ডগায় লাগলেও আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। পরে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ এবং তাতে সফল হয়। ৬৭ রান করে এলবিডব্লু হয়ে ফেরেন গ্রিন। তাঁর উইকেটটি ছিল শরিফুলের সপ্তম এবং তাতেই বাংলাদেশের নবম উইকেটের পতন হয়।
এই ৭ উইকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যেও নতুন রেকর্ড গড়েছেন শরিফুল। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৭ রানে ৬ উইকেট নিয়ে এতদিন সেরা বোলিং ফিগারের মালিক ছিলেন শাহাদাত হোসেন। ১৮ বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন শরিফুল।
অ্যাওয়ে টেস্টেও বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগার এখন শরিফুলের। এর আগে দুই মাস আগে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৩৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তাইজুল ইসলাম। এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৪৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে সেই রেকর্ডও নিজের করে নিলেন শরিফুল।