২২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৯

দুঃস্বপ্নের প্রথম সেশন শেষ, লজ্জার রেকর্ডের শঙ্কা

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ  © সংগৃহীত

ম্যাকাই টেস্টের প্রথম সেশনটা বাংলাদেশের জন্য যেন দুঃস্বপ্নের মতোই কাটল। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার আগে মাত্র দুই ঘণ্টার ক্রিকেটেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটা নিয়ে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম বলেই সাদমান ইসলামের উইকেট হারানোর পর শুরু হওয়া ধস থামেনি পুরো সেশনজুড়ে। প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশের পাঁচ ব্যাটসম্যানকে সাজঘরের পথ দেখান অস্ট্রেলিয়ার বাঁ-হাতি পেসার মিচেল স্টার্ক।

স্টার্কের আগুন ঝরানো গতি ও লাইন-লেন্থের সামনে শুরু থেকেই দিশেহারা ছিলেন লাল-সবুজের ব্যাটাররা। তবে শুধু বোলারের কৃতিত্বেই নয়, নিজেদের ভুলেও বিপদ আরও বাড়ায় বাংলাদেশ। হাফভলি বলেও উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন ব্যাটাররা। কারও কারও শট নির্বাচনও যথেষ্ট প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।

এতে একপর্যায়ে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ১২ রানে ৫ উইকেট। তখন টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজেদের সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়। মাত্র ২৬ রানে টেস্টে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড, আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর ২৭। সেই দুই লজ্জার রেকর্ড এড়ানো গেলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল।

এমন বিপর্যয়ের মধ্যেই কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। তার ব্যাটে কিছুটা আশার আলো দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সেই আশাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্যাট কামিন্সের ভেতরের দিকে ঢুকে আসা বলে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হন মুশফিক। তার বিদায়ের পর আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে তাই স্বস্তির চেয়ে অস্বস্তিই বেশি। তবে ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও শেষ দিকে কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। ৪৮ বল মোকাবিলা করে ১১ রানে অপরাজিত আছেন মিরাজ, আর ২৪ বল খেলে এখনো উইকেটে আছেন হাসান। তাদের ব্যাটে ভর করে অন্তত ৫০ রানের গণ্ডি পেরোনোর আশা করছে বাংলাদেশ।