১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৭

অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ  © সংগৃহীত

একটি মাত্র টেস্ট ম্যাচের অপেক্ষায় কেটেছে দীর্ঘ ২৩ বছর! লাল-সবুজের অনেক তারকা ক্রিকেটারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ক্রিকেটের রাজকীয় এই ফরম্যাট না খেলতে পারার আক্ষেপে পুরেছেন। ২৬ বছরের টেস্ট যাত্রায় দ্বিতীয়বারের মতো দেশটিতে সফরে গিয়েছে বাংলাদেশ। সেখানেই রূপকথার গল্প লিখল টাইগাররা। প্রথমবারের মতো স্বাগতিকদের পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ দিলো বাংলাদেশ।

ঐতিহাসিক এই জয়ে নিজেদের পাশাপাশি এশিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসেও অনন্য এক নজির গড়েছে লাল-সবুজেরা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এখনও অধরা জয়ের অপেক্ষায় শ্রীলঙ্কা, ২০০৮ এর আরেকটি জয় পেতে ভারতকে ১৩ বছর অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছে। এ ছাড়া ৩১ বছর ধরে অজিদের মাটিতে রাজকীয় এই ফরম্যাটে জয়ের অপেক্ষায় পাকিস্তান। সেখানেই নিজেদের দ্বিতীয় সফরে অনন্য ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশ।

এই জয়টাও ৯ উইকেট ব্যবধানে এসেছে। টানা ১১টি সেশনেই আধিপত্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও এই টেস্টের আগে নানাবিধ আলোচনা ছিল। অনেকেই শঙ্কা করেছিলেন, বাংলাদেশ হয়তো ইনিংস ব্যবধানেই হারবে। কেউ কেউ এও বলছিলেন, তৃতীয় দিন পর্যন্ত নাও যেতে পারে এই টেস্ট। তবে নিন্দুকের মুখে কুলূপ এঁটে টেস্টের এক নম্বর দলকেই গুঁড়িয়ে দিলো নয় নম্বরে থাকা বাংলাদেশ।

দুই সেশনেরও বেশি সময় অপ্রত্যাশিতভাবেই দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। অস্ট্রেলিয়া যে দুইশ রানের আগেই গুটিয়ে যাবে, এমন বাংলাদেশের কোনো সমর্থক কল্পনাতেও ভাবেননি। স্বাগতিকদের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, বাংলাদেশও এমনই কিছু করবে হয়তো। অনেকে উইকেটকে দোষারোপ করতেও কার্পণ্যবোধ করেননি। কিন্তু ব্যাটিংয়ে ভিন্ন গল্প লিখল লাল-সবুজেরা। ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তানজিদ হাসান তামিম। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর পাশাপাশি তার ডেপুটিও হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পেলেন।

তবে এই গল্পের নেপথ্য নায়ক হিসেবে এককভাবে ব্যাটারদের রাখা কঠিন। মূলত প্রথম দিনে পেসারদের আগুনঝরা বোলিংয়েই জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম দিনে হাসান মাহমুদ, দ্বিতীয় দিনে তানজিদ তামিম আর তৃতীয় দিনে মেহেদী মিরাজের পাশাপাশি অন্যরাও মন্ত্রমুগ্ধ এই জয়ের স্বপ্ন সাজিয়েছিলেন। প্রতিটি সেশনে আলাদা আলাদা নায়কে ভর করেই পূর্ণদৈর্ঘ্য একটি সিনেমাটিক গল্প বুনেছে বাংলাদেশ। দল হিসেবে এমন পারফরম্যান্সের ফলই ৯ উইকেটের জয় টাইগারদের।

ছোট লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ডাক মেরেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান। তবে আরেক ওপেনার সাদমান ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে সেই ধাক্কা সহজেই সামলে নেন অভিজ্ঞ মুমিনুল হক। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৯ উইকেট হাতে রেখে চা বিরতির আগেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। মুমিনুল ৩০ আর সাদমান ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

বিস্তারিত আসছে...