১৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৫

ইতিহাস গড়তে ৫৭ রান দরকার বাংলাদেশের

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ  © সংগৃহীত

একটা সময়ে মনে হচ্ছিল, ইতিহাস গড়ে ইনিংস ব্যবধানেই বোধহয় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেবে বাংলাদেশ। তবে ক্যামিরন গ্রিনের একার লড়াইয়ে সেই সম্ভাবনা ভেস্তে যায়। তবে ম্যাচজুড়ে পুরো নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতেই ছিল। নিয়ন্ত্রণ জিইয়ে রেখে এবার অল্পতেই স্বাগতিকদের থামাল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ে টেস্ট জিততে মাত্র ৫৭ রান প্রয়োজন সফরকারীদের।

প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের ১৯৮ রানের জবাবে ৪২৬ রান করেছিল বাংলাদেশ। এবার দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে গুটিয়ে দেয় টাইগাররা। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একাই লড়ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। তবে হাসান মাহমুদের আগুনঝড়া বোলিংয়ে এই সেঞ্চুরিয়ান প্যাভিলিয়নের পথ ধরার পরই স্বাগতিকদের শেষ আশার আলোও নিভে যায়। শেষ পর্যন্ত ৫৬ রানের লিড নিয়েই দ্বিতীয় ইনিংস শেষ করে অস্ট্রেলিয়া।

চতুর্থ দিনের শুরু থেকেই দুর্দান্ত বোলিং করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দিনের শুরুতে অ্যালেক্স ক্যারিকে কট-বিহাইন্ড করার পর বাউ ওয়েবস্টারকে বোল্ড করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও ফিরিয়ে দেন এই অফ-স্পিনার।

৭৪তম ওভারের শেষ বলে কামিন্সকে শিকার করেন মিরাজ। অফ-স্টাম্পের বাইরে কিছুটা ফুল লেংথের বলটি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে গিয়েছিলেন কামিন্স। তবে বল তার ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে শর্ট লেগে চলে যায়। সেখানে সাদমান ইসলামের দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরে যেতে হয় অজি অধিনায়ককে। ৩২ বলে ৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন কামিন্স।

এর আগে দিনের সপ্তম ওভারেই অ্যালেক্স ক্যারিকে ফেরান মিরাজ। অফ স্টাম্পের লাইনে পিচ করে হালকা টার্ন নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ক্যারির ব্যাটের বাইরের কানায় লাগে বল। পেছনে থাকা লিটন সহজেই ক্যাচটি তালুবন্দী করেন। ৫ চারে ৭২ বলে ৩০ রান করে ফেরেন ক্যারি।

বিরতি দিয়ে আবারও আঘাত হানেন মিরাজ। অফ স্টাম্পের লাইনে পিচ করে সোজা চলে যাওয়া একটি ডেলিভারি ভুল লাইনে খেলতে গিয়ে ব্যাটের বাইরের কানার কাছ ঘেঁষে বোল্ড হন ওয়েবস্টার। মাত্র ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

মধ্যাহ্নভোজের পর তৃতীয় ওভারে অষ্টম উইকেট হারায় অজিরা। ৮৭তম ওভারের পঞ্চম বলে মিচেল স্টার্ককে লিটন দাসের ক্যাচ বানান তাসকিন আহমেদ। ৩৪ বলে দুই চারে ১৮ রান করেন স্টার্ক। ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে তার জুটি ছিল ৪৩ রানের।

ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একটা সময় বাংলাদেশের গলার কাঁটা হয়ে উঠেছিলেন গ্রিন। তাকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেয় সফরকারীরা। পরে আর পেরে ওঠেনি স্বাগতিকরা। পঞ্চম উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের অলআউট করেন মিরাজ। শেষ ব্যাটার হিসেবে নাথান লায়ন এলবিডব্লিউ হন।