১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৫

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তানজিদের স্বপ্নের ‘সেঞ্চুরি’

তানজিদ হাসান তামিম   © টিডিসি ছবি

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্বপ্নের সেঞ্চুরি তুলে নিলেন বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ১৮৬ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম শতরান পূর্ণ করেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। তাঁর দুর্দান্ত ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ২৩০ রান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ এরই মধ্যে ৩২ রানের লিড পেয়েছে। তানজিদ ১০০ রানে অপরাজিত আছেন। তাঁর সঙ্গে ব্যাট করছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, তিনিও তুলে নিয়েছেন ফিফটি। ৭৪ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন শান্ত।

দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ১ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। দিনের প্রথম সেশনে মুমিনুল হক ও তানজিদ মিলে গড়েন ১০২ রানের জুটি। মুমিনুল ৪৯ রানে জশ হ্যাজলউডের বলে উইকেটের পেছনে অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেও তানজিদ নিজের ব্যাটিং আরও এগিয়ে নেন।

লাঞ্চে বাংলাদেশ ২ উইকেটে ১৮১ রান করেছিল। তখন তানজিদ ৭৪ ও শান্ত ২৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস থেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল ১৭ রানে। এরপর দ্বিতীয় সেশনেও দারুণ ব্যাটিং করে দ্রুত সেই ঘাটতি পূরণ করে লিড নেয় বাংলাদেশ।

সকালের শুরুতে বেশ সতর্ক ছিলেন মুমিনুল ও তানজিদ। দিনের দ্বিতীয় ওভারে প্যাট কামিন্সকে স্কয়ার লেগ দিয়ে ফ্লিক করে চার মেরে বাংলাদেশের রান ১০০-তে নিয়ে যান মুমিনুল। এরপরও বেশ কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরে খেলেন দুজন।

ড্রিংকস বিরতির পর অবশ্য তানজিদ নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখান। বো ওয়েবস্টারকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে মিড-অফের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান তিনি। লং-অফের ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে যাওয়া ওই শটেই তানজিদ ও মুমিনুলের জুটি শতরান পূর্ণ হয়।

তবে এর পরের ওভারেই মুমিনুলের ইনিংস থেমে যায়। জশ হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ৯৫ বলে ৪৯ রান করেন মুমিনুল। তাঁর বিদায়ে ভাঙে ১০২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

মুমিনুল ফেরার পরও অস্ট্রেলিয়া তানজিদের উইকেট পেতে পারেনি। বরং তাঁকে দুইবার জীবন দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নাথান লায়নের বলে কাট করতে গিয়ে প্রথমবার ক্যাচের সুযোগ তৈরি হলেও বলটি লায়নের হাত ছুঁয়ে যায়। পরে স্টিভেন স্মিথও একটি ক্যাচ নিতে পারেননি।

এর আগে ইনিংসের শুরুতেই লায়নের বলে তানজিদের ক্যাচ ছেড়েছিলেন লায়ন নিজেই। ফলে সেঞ্চুরির পথে দুবার জীবন পেয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

অন্য প্রান্তে শান্তও দারুণ ইতিবাচক ব্যাটিং করেছেন। ক্যামেরন গ্রিনের বলে তাঁর দুটি চার ছিল দৃষ্টিনন্দন। ধীরে ধীরে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর চাপ বাড়িয়ে তানজিদের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

প্রথম দিনেও সাদমান ইসলাম ৩৬ রানে আউট হওয়ার পর মুমিনুল ও তানজিদ বেশির ভাগ অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছেড়ে খেলেছিলেন। এতে অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা ব্যাটসম্যানদের কাছাকাছি বল করতে বাধ্য হন। দিনের শেষ দিকে রান করার সুযোগ বাড়লে বাংলাদেশের রান তোলার হারও বাড়তে থাকে।

বাংলাদেশের এই শক্ত অবস্থানের পেছনে অবশ্য বোলারদের অবদানও বড়। হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ১৯৮ রানে থামে। একাই ছয় উইকেট নেন হাসান। মাত্র ৫৩ ওভারে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দেওয়ার পর এবার ব্যাট হাতে সেই কাজটিই এগিয়ে নিচ্ছেন তানজিদ ও শান্ত।

দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই প্রথম ফিফটির পর এবার প্রথম সেঞ্চুরিও তুলে নিলেন তানজিদ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে পাওয়া এই শতরান তাই তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় ইনিংস হয়ে থাকারই কথা।