১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪:০৩

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচেও স্নিকোমিটার বিতর্ক!

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচেও স্নিকোমিটার বিতর্ক!  © সংগৃহীত

প্রায় ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই দারুণ দাপট দেখায় বাংলাদেশের পেসাররা। তবে ডারউইন টেস্টে স্বাগতিক দলের ব্যাটারদের বেশির ভাগই যেখানে ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না, সেখানে অভিজ্ঞ স্টিভেন স্মিথই হয়ে উঠেন ব্যতিক্রম। তবে তার একটি আউটের আবেদনে ‘স্নিকো মিটার’-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

ব্যক্তিগত ৭ রানে এবাদত হোসেনের বলে স্মিথের ব্যাটের পাশ ঘেঁষে বলটি উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে জোরালো আবেদন করে বাংলাদেশ। কিন্তু আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা তাতে সাড়া দেননি। বাংলাদেশ রিভিউ নিলে স্মিথও প্যাভিলিয়নের দিকে কয়েক পা এগিয়ে গিয়েছিলেন। তার ভঙ্গিতে মনে হচ্ছিল, বলটি ব্যাটে লেগেছে; এ বিষয়ে তিনিও বেশ নিশ্চিত।

কিন্তু রিপ্লেতে স্নিকো মিটারে কোনো স্পষ্ট স্পাইক দেখা যায়নি। ফলে সিদ্ধান্ত বদলায়নি এবং স্মিথকে আবার ক্রিজে ফিরতে হয়। এতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের হতাশাও তখন স্পষ্ট। কয়েকজনকে স্মিথের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে যেন প্রশ্ন করতেও দেখা যায়, বলটি সত্যিই ব্যাটে লেগেছিল কি না।

ঘটনাটি সামনে আসতেই অস্ট্রেলিয়ার ধারাভাষ্যকারদের আলোচনায় উঠে আসে ডিআরএসের অডিও প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা। সর্বশেষ অ্যাশেজেও এই প্রযুক্তি নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক হয়েছিল।

অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে স্নিকো মিটারে ভুল অডিও ব্যবহারের অভিযোগ ওঠেছিল। পরে প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্বীকার করে, অপারেটরের ভুলে বোলারের প্রান্তের স্টাম্প মাইক্রোফোনের অডিও ব্যবহার করা হয়েছিল।

ভুল অডিও সোর্স ব্যবহারের ফলে শব্দের সঙ্গে ভিডিও ফ্রেমের সময়ের মিল থাকেনি। এর প্রভাব পড়ে একাধিক সিদ্ধান্তে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি ৭২ রানে ব্যাটে বল লাগার পরও স্নিকো মিটারের ত্রুটির কারণে নটআউট থেকে যান। পরে ক্যারি নিজেই জানান, তিনি বলের স্পর্শ ও শব্দ টের পেয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ম্যাচ রেফারির কাছে অভিযোগও করেছিল ইংল্যান্ড দল।

পরদিন ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার-ব্যাটার জ্যামি স্মিথের আউটের সময়ও স্নিকো মিটারের স্পাইক ও ভিডিওর মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা যায়। তখন অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্ক প্রকাশ্যেই প্রযুক্তিটির সমালোচনা করে এটিকে ‘বাজে প্রযুক্তি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

অ্যাশেজের সেই বিতর্কের পর ডারউইন টেস্টে স্মিথের ঘটনায় আবারও স্নিকো মিটারের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবারও প্রশ্ন উঠছে, অডিও ও ভিডিওর সঠিক সমন্বয় না হলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রযুক্তির ওপর কতটা ভরসা করা যায়?