১৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৮

ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা জুটি ভাঙলেন এবাদত

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ  © সংগৃহীত

প্রায় ২৩ বছর পর প্রত্যাবর্তনের টেস্টে প্রথমদিনের প্রথম ইনিংসেই স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে যেভাবে চেপে ধরেছেন বাংলাদেশের পেসাররা, তাতে অনেকটা স্বস্তি নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা করেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই আনন্দটা আরও বেশি হতে পারতো। স্টিভেন স্মিথের সহজ ক্যাচটা ফেলে দেন তানজিদ হাসান তামিম। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার একাই টেনে নিচ্ছেন অজিদের।

অ্যালেক্স ক্যারিকে সঙ্গে নিয়ে ভয়ঙ্কর জুটিরই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। তবে সেই জুটি বেশদূর এগোতে দেননি এবাদত হোসেন। ক্যারিকে ফিরিয়ে বিপদ বাড়ান অজি শিবিরে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩৮ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ১৫১ রান। ৪৬ রান নিয়ে ব্যাট করছেন স্মিথ এবং ১২ রান নিয়ে তার সঙ্গী ওয়েবস্টার।

এর আগে, মারারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে আলো ছড়িয়েছেন বাংলাদেশের তিন পেসার হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন। শুরুর দিকে ষ্ট্যাম্পে বল করলেও মাঝে কল্পিত ‘চতুর্থ স্টাম্প’ ধরে টানা বোলিং করে পুরস্কার পেয়েছেন তারা। এতে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার আগে ২২ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৭৬ রান।

ইনিংসের ১২তম ওভারে প্রথম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। হাসানের অফ-স্টাম্পের বাইরে ড্রাইভের লোভ দেখানো কয়েকটি বল করার পর একই ধরনের একটি ডেলিভারিতে ভুল করেন জেক ওয়েদারাল্ড। ১২তম ওভারের চতুর্থ বলে ড্রাইভ খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় বল লাগান তিনি। সরাসরি উইকেট-কিপার লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়ে বল। এতে ২৩ রানে থামে ওয়েদারাল্ডের ইনিংস।

১৪তম ওভারে আবারও বড় ধাক্কা দেন হাসান। রাউন্ড দ্য উইকেটে তার ভালো লেংথের বলটি খানিকটা বেশিই লাফিয়ে ওঠেছিল। হেড সেটি ঠেকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বল ভেতরের দিকে ঢুকে ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করে। ফলে দলীয় ৪৫ রানে ২২ রানেই সাজঘরে ফেরেন হেড।

১৯তম ওভারে এবাদত হোসেনের বলে বিদায় নেন মার্নাস লাবুশেন। ইবাদতের করা দ্বিতীয় বলটি ছেড়ে দিতে পারতেন লাবুশেন। কিন্তু অভ্যাসবশত ব্যাট বাড়িয়ে খোঁচা দেন তিনি। বল চলে যায় দ্বিতীয় স্লিপে, যেখানে সহজ ক্যাচটি লুফে নেন অধিনায়ক শান্ত। মাত্র ১ রান করে ফেরেন লাবুশেন। উইকেট পাওয়ার পর ইবাদতের উদ্‌যাপন ছিল চোখে পড়ার মতো।

এরপর প্রথম সেশনের শেষ বলে এসেছে চতুর্থ উইকেট। তাসকিন আহমেদের লেন্থ বলটি অন সাইডে তুলে মারতে চেয়েছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। সময়ের একটু আগেই শট খেলে ফেলায় বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান তিনি। বলটি ব্যাটের কানায় লেগে শর্ট মিডউইকেটের দিকে চলে যায়।

সেখানে নিজের ডান দিকে দ্রুত ঝাঁপিয়ে দুই হাতে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। ১৩ রান করে হতাশায় মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়েন গ্রিন। তার উইকেটের সঙ্গে সঙ্গেই প্রথম দিনের লাঞ্চ বিরতি ঘোষণা করা হয়।

১১ দশমিক ৪ ওভার থেকে ২২ ওভার পর্যন্ত মাত্র ৬২ বলের মধ্যে ৪টি উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এই সময়ে রান মাত্র ২৯ এসেছে। ৪৫ রানের ওপেনিং জুটি ছাড়া আর কোনো জুটি বড় হয়নি স্বাগতিকদের।