১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪১

উইকেটের দেখা পেলেন হাসান মাহমুদ, সাজঘরে ফিরলেন ওয়েদারাল্ড

হাসান মাহমুদের আগুনে বোলিং   © সংগৃহীত

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম সাফল্যের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। ইনিংসের ১১তম ওভারে জেক ওয়েদারাল্ডকে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করে স্বাগতিকদের প্রথম উইকেট তুলে নিয়েছেন হাসান মাহমুদ। এতে ৩৭ বলে ২৩ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন অস্ট্রেলিয়ার এই ওপেনার।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে বেশ চাপে ছিল অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার। বিশেষ করে হাসান মাহমুদের সুইং সামলাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল ট্রাভিস হেড ও ওয়েদারাল্ডকে। দুই দিকেই বল সুইং করিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের অস্বস্তিতে রাখেন হাসান।

ষষ্ঠ ওভারেও হাসানের বলে পরাস্ত হন ওয়েদারাল্ড। অষ্টম ওভারে হাসান রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে বোলিং করেও স্বস্তি দেননি দুই ওপেনারকে। তবে ওভারের শেষ বলে কিছুটা খাটো ও বাজে হাফ ভলিতে চার হজম করেন তিনি। এরপরও শুরু থেকে দারুণ বোলিং করে যাচ্ছিলেন হাসান।

নবম ওভারে বোলিংয়ে পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আক্রমণে আসেন এবাদত হোসেন। প্রথম ওভারেই দারুণ বোলিংয়ে দুবার ট্রাভিস হেডকে পরাস্ত করেন তিনি। ওভারের পঞ্চম বলে এলবিডব্লুর আবেদন করে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তবে তাতে সাফল্য আসেনি। শেষ পর্যন্ত মেডেন ওভার দিয়ে ভালো শুরু করেন এবাদত।

এরপর আবারও বল হাতে আক্রমণে আসেন হাসান মাহমুদ। আর এবারই সাফল্য পান তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরে জায়গা পেয়ে উঠে এসে ড্রাইভ করার চেষ্টা করেন ওয়েদারাল্ড। তবে ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে। সহজ ক্যাচ লুফে নিয়ে ওয়েদারাল্ডের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান লিটন।

৩৭ বলে চারটি চারের সাহায্যে ২৩ রান করেন ওয়েদারাল্ড। হাসান মাহমুদের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরার সময় তার স্ট্রাইক রেট ছিল ৬২.১৬।

এর আগে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিকরা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত জানান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।

ডারউইনের উইকেটে ঘাসের ভালো আস্তরণ রয়েছে। পাশাপাশি উইকেটে কিছুটা আর্দ্রতাও আছে। ফলে ম্যাচের শুরুতে পেসাররা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে আগে বোলিং করার সুযোগ পেয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও অসন্তুষ্ট হননি।

অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের এক দিন আগেই একাদশ ঘোষণা করেছিল। দলে ফিরেছেন চার মূল বোলার প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজলউড। সামনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত ও কঠিন একটি বছর। সেই দীর্ঘ সময়ে দলের বোলিং আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এই চারজনের কাঁধেই থাকবে।

স্বাগতিকদের হয়ে ইনিংস শুরু করেন ট্রাভিস হেড ও জেক ওয়েদারাল্ড। তিন নম্বরে আছেন মার্নাস লাবুশেন ও চার নম্বরে স্টিভেন স্মিথ। অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও বিউ ওয়েবস্টারকেও একাদশে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ এই ম্যাচে ছন্দে থাকা দুই পেসার নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলামকে পাচ্ছে না। তবে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য শরীফুল ফিট বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি হবে ম্যাকে।

উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাসও দলে ফিরেছেন। কাফের চোটের কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ টেস্টে খেলতে পারেননি তিনি।

তৃতীয় পেসার হিসেবে খালেদ আহমেদের পরিবর্তে একাদশে জায়গা পেয়েছেন এবাদত হোসেন। নতুন বলে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের সঙ্গে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে থাকবেন এবাদত।

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামা বাংলাদেশ সাম্প্রতিক টেস্ট ফর্মের আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছে। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের শুরুতেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে চাইছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

অস্ট্রেলিয়ার একাদশ: ট্রাভিস হেড, জেক ওয়েদারাল্ড, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটকিপার), বিউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, জশ হ্যাজলউড।

বাংলাদেশের একাদশ: তানজিদ হাসান, শাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ।